কলম্বোতে ৪৫তম মহান স্বাধীনতা দিবস পালন

আপডেট : ৩০ মার্চ ২০১৬, ১৮:৫৪
 
কলম্বোতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাই কমিশন যথাযোগ্য মর্যাদা এবং উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ৪৫তম মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালন করে। শনিবার (২৬ মার্চ) সকালে চান্সারি প্রাঙ্গণে হাই কমিশনার তারিক আহসান কর্তৃক আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিবসটি উদযাপনের কর্মসূচীর সূচনা হয়। এতে শ্রীলংকায় বসবাসকারী প্রবাসী বাংলাদেশীগণসহ মিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ অংশগ্রহণ করেন।
 
মুক্তিযুদ্ধের শহীদানের সম্মানে এক মিনিট নীরবতা পালনের পর দিবসটি উপলক্ষ্যে প্রেরিত রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্র মন্ত্রী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণীসমূহ হাই কমিশনের কর্মকর্তাগণ কর্তৃক পাঠ করা হয়। এরপর দিবসটি উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনাসভায় হাই কমিশনার তারিক আহসান, তাঁর মন্তব্যে, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং একাত্তরের শহীদ, মুক্তিযোদ্ধা এবং নির্যাতিত মানুষের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি সামাজিক ও অর্থনৈতিক অঙ্গণে স্বাধীন বাংলাদেশের অর্জিত সাফল্য তুলে ধরেন এবং অভিমত ব্যক্ত করেন যে, এ অর্জন স্বাধীনতা উদযাপনকে আরো অর্থবহ ও গৌরবময় করে তুলেছে। মুক্তিযুদ্ধের পটভূমির ওপর নির্মীত একটি প্রামান্য চিত্র প্রদর্শনী ও আপ্যায়নের মাধ্যমে চান্সারিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানের পরিসমাপ্তি ঘটে।
 
শনিবার বিকেলে দিবসটি উপলক্ষ্যে শ্রীলঙ্কার টেলিভিশন চ্যানেল, 'চ্যানেল আই' হাই কমিশনার তারিক আহসানের একটি বক্তব্য সম্প্রচার করে।
 
IMG0
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে সোমবার (২৮ মার্চ) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ হাই কমিশন একটি পাঁচ-তারা হোটেল, 'কিংসবেরি কলম্বো'-তে একটি অভ্যর্থনার আয়োজন করে। এ অভ্যর্থনার আনুষ্ঠানিক পর্বে ছিল বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনা; হাই কমিশনার তারিক আহসান ও অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি, শ্রীলঙ্কার সরকারি সংস্থা উন্নয়ন বিষয়ক মন্ত্রী কবীর হাশিমের বক্তব্য প্রদান; এবং তাঁদের ও অন্যান্য সূধীগণ কর্তৃক কেক কাটা।
 
হাই কমিশনার তাঁর মন্তব্যে, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং একাত্তরের শহীদ, মুক্তিযোদ্ধা এবং নির্যাতিত মানুষের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অর্জিত সাফল্য এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গণে শান্তি ও গণতন্ত্রের বিকাশে বাংলাদেশের নেতৃস্থানীয় ভূমিকা তুলে ধরেন। বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্প্রর্কের প্রসঙ্গে তিনি এ বছর কলম্বোতে বাংলাদেশ হাই কমিশন প্রতিষ্ঠার ৪০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে হাই কমিশন কর্তৃক গৃহীত ও বিবেচনাধীন বিভিন্ন কার্যক্রম উল্লেখ করেন।
 
প্রধান অতিথি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র মন্ত্রীর প্রতি জাতীয় দিবসের উষ্ণ অভিনন্দন জানান। তিনি সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন যে, বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে শত-শত বছরের ঐতিহ্যবাহী সম্প্রর্ক বর্তমানে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিক্ষা, সংস্কৃতি, ক্রীড়া, প্রতিরক্ষা এবং বিশেষভাবে, সংযোগের মত ক্ষেত্রে প্রসারিত হচ্ছে। তিনি শ্রীলঙ্কার কঠিন সময়ে তাঁর দেশের ঐক্য, সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা রক্ষায় বাংলাদেশের সমর্থনের কথা কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন।
 
প্রধান অতিথি ছাড়াও, এ অভ্যর্থনায় উপস্থিত বিশিষ্ট অতিথিদের মধ্যে ছিলেন : শ্রীলঙ্কা জাতীয় সংসদের স্পিকার, কারু জায়াসুরিয়া; অর্থমন্ত্রী রাভি কারুণানায়াকে; বন্দর ও নৌপরিবহন মন্ত্রী, আর্জুনা রানাতুঙ্গা; বিচার ও বুদ্ধাশাসন মন্ত্রী, বিজায়াদাসা রাজাপাকশে; নগর পরিকল্পনা ও পানি সরবরাহ মন্ত্রী, রাউফ হাকীম; মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী, চান্দ্রানী বান্দানা জায়াসিংহে; স্থানীয় সরকার ও প্রাদেশিক কাউন্সিল বিষয়ক মন্ত্রী ফাইজার মুস্তাফা; উত্তর-পশ্চিম প্রদেশের গভর্নর, আমারা রাত্নায়াকে; উভা প্রদেশের গভর্নর, এম, পি, জায়াসিংহে; পূর্ব প্রদেশের মূখ্য মন্ত্রী, আহমেদ নাজীর;
 
জাতীয় সম্পৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী, এ, এইচ, এম, ফাউজি; স্বাস্থ্য উপমন্ত্রী, ফাইসাল কাসিম; কলম্বো নগরের মেয়র, এ, যে, এম, মুজাম্মিল; প্রাক্তন পররাষ্ট্র মন্ত্রী, গি, এল, পেইরিস; পররাষ্ট্র সচিব, চিত্রাঙ্গাণী ওয়াগিস্বারা। উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিবগণ, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাই কমিশনারগণ, বিভিন্ন দূতাবাসের কূটনীতিক ও প্রতিরক্ষা উপদেষ্টাগণ, বিশিষ্ট ব্যবসায়ীগণ, সুশীল সমাজ ও গণমাধ্যম সম্প্রদায়ের সদস্যগণ, প্রবাসী বাংলাদেশীগণ এবং হাই কমিশনের কর্মকর্তা/কর্মচারীগণ। বর্ণীল ব্যানারসহ অভ্যর্থণা কক্ষটি চিত্তাকর্ষক ফুলেল আয়োজনে সুসজ্জিত ছিল। এতে বাংলাদেশের পর্যটন আকর্ষণসমূহের ওপর নির্মিত একটি ভিডিও প্রামান্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। স্থানীয় ব্যান্ড কর্তৃক পরিবেশিত বাংলা গান ও যন্ত্রসংগীতের আবহে বাংলাদেশী আমেজে রন্ধনকৃত ও পরিবেশিত খাবার অতিথিদের বিমোহিত।