পানামার গোপন নথিতে মেসি ও প্লাতিনির নাম

আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০১৬, ১৩:০০
পানামার ল ফার্মের ফাঁস হওয়া গোপন নথিতে বিশ্বের বহু হোমরা-চোমরার সঙ্গে পাওয়া গেছে ফুটবলার লিওনেল মেসির নাম। মোস্যাক ফনসেকা নামে ওই ল ফার্ম থেকে এক কোটি দশ লাখ গোপন নথি ফাঁস হয়েছে, যাতে বিভিন্ন দেশের বর্তমান ও সাবেক রাষ্ট্রপ্রধানসহ বিশ্বের ধনী ও ক্ষমতাধররা কীভাবে কর ফাঁকি দিয়ে গোপন সম্পদের পাহাড় গড়েছেন সেই তথ্য বেরিয়ে আসছে।
 
মেসি ছাড়াও ফাঁস হওয়া দলিলে নাম রয়েছে ফরাসি কিংবদন্তি খেলোয়াড় ও দুর্নীতির দায়ে উয়েফা সভাপতির পদ হারানো মিশেল প্লাতিনি।
 
জার্মান সংবাদপত্র সুইডয়চে সাইটং ওইসব তথ্য হাতে পেয়ে ইন্টারন্যাশনাল কনসোর্টিয়াম অফ ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্টসের (আইসিআইজে) সঙ্গে বিনিময় করেছে। গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নথিতে দেখা যায়, মেসি ও তার বাবা হোর্হে হোরাসি ২০১২ সালে মোস্যাক ফনসেকায় নিবন্ধিত ‘মেগা স্টার এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি কোম্পানির চূড়ান্ত সুবিধাভোগী মালিক। দেশের বাইরে কোম্পানি খুলে তা পরিচালনা বেআইনি না হলেও স্বচ্ছতার অভাব থাকায় তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এফসি বার্সেলোনার এই খেলোয়াড় ও তার বাবার বিরুদ্ধে স্পেনে কর ফাঁকির মামলার বিচার চলছে।
 
গার্ডিয়ান বলছে, উরুগুয়ে ও বেলিজে কিছু নামকাওয়াস্তে প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার করে বার্সেলোনার ফুটবল তারকার ছবির স্বত্ব বিক্রির মাধ্যমে কর ফাঁকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। তবে এই মামলায় মেগা স্টারের নাম উল্লেখ করা হয়নি। তবে বাবা ও ছেলে এই অভিযোগ অস্বীকার করে দায় চাপান এক সাবেক আর্থিক উপদেষ্টার উপর।২০১৩ সালের আগস্টে হোর্হে মেসি স্বেচ্ছায় ৫০ লাখ ইউরো জরিমানা পরিশোধ করেন।
 
গার্ডিয়ান বলেছে, মেগা স্টারের বিষয়ে জানতে ১২ দিন আগে মেসির যোগাযোগ করেও কোনো সাড়া মেলেনি। তার বাবা আইসিআইজের কাছে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
 
এদিকে জানা গেছে মিশেল প্লাতিনি ২০০৭ সালে পানামাতে একটি কোম্পানি গঠন করেন, ওই বছরই উয়েফার সভাপতি হয়েছিলেন তিনি। ২০১৬ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত কার্যকর থাকা ওই প্রতিষ্ঠানের একচ্ছত্র মালিকানা প্লাতিনির। ২০১১ সালে প্রশ্নবিদ্ধ ভাবে ২ মিলিয়ন ডলার নেয়ার অভিযোগে ইতোমধ্যে ফিফা থেকে ছয় বছরের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছেন প্লাতিনি। এছাড়াও ফিফার বেশ কয়েক জন কর্মকর্তার নামও রয়েছে ফাঁস হওয়া দলিলে।