উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে শেষ আটের ম্যাচে পিএসজির মাঠে ২-২ গোলে ড্র করে ফিরেছে ম্যানচেস্টার সিটি। অ্যাওয়ে গোলের সুবিধা নিয়ে ঘরের মাঠে ফরাসি চ্যাম্পিয়নদের মুখোমুখি হবে পেল্লেগ্রিনির দল।
আগামী মঙ্গলবার সিটির মাঠ ইতিহাদে ফিরতি লেগে মুখোমুখি হবে দুই দল। মূল্যবান দুটি অ্যাওয়ে গোল থাকায় নিজেদের মাঠে গোলশূন্য কিংবা ১-১ স্কোরলাইনে ড্র করলেও প্রথমবারের মতো ইউরোপ সেরার আসরের সেমি-ফাইনালে উঠবে ম্যানসিটি। বুধবার রাতে ম্যাচের চতুর্দশ মিনিটে জো হার্টের দুর্দান্ত সেভে বেঁচে যায় সিটি। বক্সের মধ্যে ডেভিড লুইজকে বেকারি সানিয়া ফাউল করলে পেনাল্টি পায় পিএসজি। দলটির তারকা ফরোয়ার্ড জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচের শট ঝাঁপিয়ে পড়ে কর্নারের বিনিময়ে ফেরান হার্ট। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের চলতি আসরে হার্টের এটি দ্বিতীয় পেনাল্টি সেভ।
প্রথমার্ধে দুই দলই গোলের একাধিক সুযোগ নষ্ট করে। প্রতিপক্ষ গোলরক্ষককে একা পেয়েও লক্ষ্যভেদে ব্যর্থ হন পিএসজির সুইডিশ ফরোয়ার্ড ইব্রাহিমোভিচ। সিটির দাভিদ সিলভাও পারেননি দলকে এগিয়ে নিতে। ৩৮তম মিনিটে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের দলটি এগিয়ে যায় কেভিন ডি ব্রুইনের গোলে। ফের্নান্দিনিয়োর পাস থেকে জোরালো শটে লক্ষ্যভেদ করেন বেলজিয়ামের এই ফরোয়ার্ড।
হাস্যকর ভুলে সিটির এগিয়ে থাকার স্বস্তি উবে যায় তিন মিনিট পরই। হার্টের গোল কিক বক্সের একটু ওপরে থাকা ফার্নান্দো ঠিকঠাক নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেননি। পাশে থাকা ইব্রাহিমোভিচ ছুটে এলে বিপদমুক্ত করার চেষ্টা করেছিলেন এই ব্রাজিলিয়ান, কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। ফার্নান্দোর পাস দেওয়ার প্রচেষ্টা পিএসজি ফরোয়ার্ডের বাড়ানো পা হয়ে ঠিকানা খুঁজে পায়। লিগ ওয়ান ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগ মিলিয়ে চলতি মৌসুমে এটি ইব্রাহিমোভিচের ৩৫তম গোল।
IMG0
৫৯তম মিনিটে আদ্রিয়েন রাবিওর গোলে এগিয়ে যায় গত তিন মৌসুমেই কোয়ার্টার-ফাইনাল থেকে ছিটকে পড়া পিএসজি। আনহেল দি মারিয়ার কর্নারে এদিনসন কাভানির নেওয়া হেড ফেরালেও বক্সের মধ্যে ডান দিকে সুবিধাজনক জায়গায় থাকা ফরাসি এই মিডফিল্ডারের শট আটকাতে পারেননি হার্ট।
এগিয়ে গেলেও নিজেদের রক্ষণভাগের ব্যর্থতায় ব্যবধান ধরে রাখতে পারেনি পিএসজি, ৭২তম মিনিটে সমতায় ফেরে সিটি। সিটির সানিয়ার ক্রস বিপদমুক্ত করতে পারেননি চিয়াগো সিলভারা, গোলমুখে থাকা ফার্নান্দিনহোর আলতো শট স্বাগতিক এক খেলোয়াড়ের পায়ে লেগে জালে জড়ালে ড্রয়ে শেষ হয় ম্যাচ।
দিনের অপর ম্যাচে ভলফসবুর্গের মাঠে ২-০ গোলে হেরেছে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সর্বোচ্চ দশবারের চ্যাম্পিয়ন রিয়াল মাদ্রিদ। এই হারে সেমি-ফাইনালে ওঠার পথটা কঠিন হয়ে গেলো জিনেদিন জিদানের দলের। গোল.কম।
