'ফাইভ মার্ডার' মামলার আসামি ছিলেন জেএমবি সদস্য তরিকুল

আপডেট : ০৮ এপ্রিল ২০১৬, ১২:৩৯
শেরপুরে বোমা তৈরির সময় বিস্ফোরণে নিহত জেএমবি সদস্য তরিকুল ইসলাম (৩০) জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় বেগুনগ্রামে সংঘটিত ‘ফাইভ মার্ডার’ মামলার চার্জশীট ভুক্ত আসামি ছিলেন। স্বজনরা জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজে থাকা তরিকুলের লাশ গত মঙ্গলবার শনাক্ত করেন।
 
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মো. এরফান। বগুড়া শেরপুর উপজেলার গাড়িদহ ইউনিয়নের জোয়ানপুর কুঠিরভিটা গ্রামে জনৈক মাহবুবুর রহমানের বাড়িতে গত রবিবার রাতে হাত বোমা তৈরির সময় বিস্ফোরণে তরিকুলসহ দুইজন নিহত হয়। পরের দিন ওই বাড়ি থেকে পুলিশ অভিযান চালিয়ে গ্রেনেড, বিস্ফোরক, গুলি ও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করে।
 
জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার বেগুনগ্রামে পীরের আস্তানায় ২০০৩ সালের ২০ জানুয়ারি হানা দিয়ে জেএমবি সদস্যরা আস্তানার খাদেমসহ ৫ জনকে জবাই করে হত্যা করে। লুটপাট করা হয় আস্তনার টাকা ও অন্যান্য মালামাল। ওই ঘটনায় অভিযুক্তদের মধ্যে একজন হচ্ছেন তরিকুল ইসলাম। তিনি সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার জামুয়া গ্রামের আবু বক্কর সিদ্দিকের ছেলে। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সি আই ডি) ফাইভ মার্ডার মামলার তদন্ত শেষে ২০০৮ সালে আদালতে দাখিল করা অভিযোগ পত্রে অন্যান্য অভিযুক্তদের পাশাপাশি তরিকুলের জড়িত থাকার বিষয়টি উল্লেখ করেন। ওই অভিযোগ পত্রে উল্লেখ যোগ্য অভিযুক্তদের মধ্যে ছিলেন জেএমবি প্রধান শায়খ আব্দুর রহমান ও সিদ্দিকুল ইসলাম বাংলা ভাই। তখন তরিকুলকে ওই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে কারাগার থেকে জামিনে বের হয়ে আর হাজিরা দেন নি এবং জামিনও নেননি বলে নথি পর্যালোচনায় জানা যায়। 
 
এ ব্যপারে জয়পুরহাটের সরকারি কৌঁসলি অ্যাডভোকেট নৃপেন্দ্রনাথ মন্ডল পিপি বলেন, ফাইভ মার্ডার মামলাটি রাজনীতিকরণ করা ও ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে প্রথমে। ফলে তদন্তের জন্য বারবার তদন্ত কর্মকর্তা বদল করা হয়েছে। পাঁচবার তদন্ত কর্মকর্তার হাত বদল হয়ে অবশেষে সিআইডি এই মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলাটি বর্তমানে জয়পুরহাটের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন থাকলেও স্থানীয় আইনজীবীদের ওই আদালত বর্জন কর্মসূচি চলার কারণে শুনানি বন্ধ রয়েছে বলে জানান সরকারি কৌঁসলি অ্যাডভোকেট নৃপেন্দ্রনাথ মন্ডল পিপি ।