‘সিরিয়ায় অস্ত্র বিরতি ভেঙে পড়ার মুখে’

আপডেট : ১০ এপ্রিল ২০১৬, ১৪:৪১
সিরিয়ায় অস্ত্র বিরতি প্রায় ভেঙে পড়ার মুখে। রবিবার প্রকাশিত এক সাক্ষাতকারে হাই নেগোসিয়েশনস কমিটি অব দ্য সিরিয়ান অপোজিশনের সদস্য বাসমা কোদমানি এ কথা বলেন। 
 
 
জেনেভায় শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরুর কয়েকদিন আগে তিনি এ মন্তব্য করলেন। বাসমা কোদমানি জার্নাল দু দিমাঁশে’কে বলেন, গত প্রায় ১০ দিন ধরে পরিস্থিতি খুবই নাজুক হয়ে পড়েছে। অস্ত্রবিরতি প্রায় ভেঙে পড়ার মুখে। তিনি বলেন, ব্যারেল বোমার ব্যবহার পুনরায় শুরু হয়েছে।  ফরাসি পত্রিকাটিকে তিনি আরো বলেন, অস্ত্র বিরতি পর্যবেক্ষণে থাকা ইউএস-রাশিয়ান মিশন ক্ষমতাহীন হয়ে পড়েছে।
 
সিরিয়ায় সরকার পক্ষ ও বিরোধীদের মধ্যে ভঙ্গুর এ অস্ত্র বিরতি গত ২৭ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়। উল্লেখ্য, দেশটির প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের বাহিনীকে সমর্থন দিচ্ছে রাশিয়া এবং বিরোধী পক্ষের সমর্থনে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইসলামিক স্টেট গ্রুপ ও আল কায়দার স্থানীয় গোষ্ঠী আল নুসরা ফ্রন্ট যেসব এলাকায় রয়েছে সেসব জায়গায় অস্ত্র বিরতি কার্যকর নয়। 
 
বাসমা কোদমানি স্বীকার করেন, বিরোধীদের ওপর আঘাত এসেছে । কারণ ফেব্রুয়ারিতে অস্ত্র বিরতি পর্যন্ত রাশিয়া মধ্যপন্থী বিরোধীদের সরবরাহ লাইনের ওপর হামলা চালিয়েছে। এদিকে মধ্য মার্চেই ঘোষণা দেয়া হয়েছিল বাশারকে সমর্থনদানকারী রুশ বাহিনীকে প্রত্যাহার করা হবে। আভাস দেয়া হয়েছিল বাশারের প্রতি সমর্থন ব্যাপক ও শর্তহীন হবে না। 
 
তিনি বলেন, কিন্তু রাশিয়ার জন্যে চ্যালেঞ্জ হলো তারা কি আলোচনার শর্তসমূহের বিষয়ে দামেস্ককে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে? এদিকে সিরীয় যুদ্ধ বন্ধে জেনেভায় ১৩ এপ্রিল পুনরায় আলোচনা শুরু হতে যাচ্ছে।  জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ ডিসেম্বরে যে প্রস্তাব পাশ করে তার আওতায় জেনেভা বৈঠকের সুযোগ তৈরি এবং অস্থায়ী সরকার গঠনের ১৮ মাসের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের আহ্বান জানানো হয়। 
 
এ প্রেক্ষাপটে এবারের জেনেভা বৈঠকের ওপর বাশার আল আসাদের ভাগ্য অনেকাংশে নির্ভর করছে।  কোদমানি বলেন, আমরা সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে অস্থায়ী সরকারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার চেষ্টা করবো। তিনি আরো বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এ খেলায় রাশিয়াকে সবধরণের সুযোগ করে দিয়েছেন। কিন্তু তার নিজস্ব কোন রাজনৈতিক ইচ্ছে নেই। সুতরাং যুক্তরাষ্ট্র আরো বেশি করে এ বিষয়ে যুক্ত হতে পারে। এএফপি।