নিউইয়র্কে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের পাঠচক্রে দর্পণ কবীরের ৮ উপন্যাস

আপডেট : ১০ এপ্রিল ২০১৬, ১৫:৩৪
নিউইয়র্কে বসবাসরত লেখক ও সাংবাদিক দর্পণ কবীরের উপন্যাস নিয়ে আলোচনা হয়েছে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের নিয়মিত পাঠের আসরে। স্থানীয় সময় শনিবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের স্কালাসটিকা টিউটোরিয়াল মিলনায়তনে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় প্রধান আলোচক ছিলেন, বিশিষ্ট লেখক ও কলামিস্ট হাসান ফেরদৌস। অন্যান্যের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন সাংবাদিক ও লেখক ফাহিম রেজা নূর, রানু ফেরদৌস, নাসরিন চৌধুরী ও কবি ইকবাল হোসেন। 
 
এক মলাটে দর্পণ কবীরের ৮ উপন্যাস শিরোনামে বইয়ের আলোচনা সভা সঞ্চালনা করেন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র যুক্তরাষ্ট্র শাখার পরিচালক আশরাফুল হাসান বুলবুল এবং সভাটির সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন পরিচালক মাহফুজা বুলবুল। 
 
সভায় দর্পণ কবীরের উপন্যাস নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে হাসান ফেরদৌস বলেন, উপন্যাসে শুধু স্বপ্নপূরণের গল্প বিধৃত হলে চলে না। অভিজ্ঞতার ইন্টারপ্রিটেশন থাকতে হবে। উপন্যাসে জীবনের বিশ্বাসযোগ্য জগত তৈরি করতে হবে। উপন্যাসের ভাষায় স্বস্তি থাকতে হবে। 
 
তিনি বলেন, গল্প বলা নয়, গল্পের ব্যাখা করা উপন্যাসিকের কাজ। তিনি দর্পণ কবীরের ৮টি উপন্যাসে জীবনের জগত সেভাবে বিস্তৃত হয়নি বলে মন্তব্য করেন।
 
হাসান ফেরদৌস বলেন, দর্পণ কবীরের গল্প বলার ক্ষমতা আছে। উপন্যাসগুলোতে নাটকীয়তা বেশি। তবে চরিত্রগুলো আরো পরিস্ফূটিত হতে পারতো। IMG0
 
ফাহিম রেজা নূর বলেন, দর্পণ কবীরের উপন্যাসগুলো পাঠককে দ্রুত আকর্ষণ করতে পারে বলে এখানে লেখকের সার্থকতা। উপন্যাসের পরিধি ছোট হলেও গল্পে গতিময়তা আছে। যা পাঠকের মধ্যে প্রবল আগ্রহ তৈরি করে। রানু ফেরদৌস ‘ফেরারী বসন্ত’ উপন্যাস পাঠের অভিজ্ঞতা থেকে বলেন, এ উপন্যাসে নায়িকা চরিত্রগুলো সুন্দরী ও ধনী। নায়িকারা হুটহাট নায়কের প্রেমে পড়েছে। এটা বেমানান মনে হয়েছে। উপন্যাসে কিছু শব্দও বেশি ব্যবহৃত হয়েছে। 
 
নাসরিন চৌধুরী ‘অচেনা বিভাস’ উপন্যাস পাঠের অভিজ্ঞতা থেকে বলেন, এটি পাঠ করতে গিয়ে বইটি রেখে দিতে পারিনি। প্রবল আকর্ষণ নিয়ে বইটি শেষ করেছি। এই উপন্যাসে মার্কিন অভিবাসী জীবনের অনেক কথা উঠে এসেছে, যা বাস্তব। বইটি সুখপাঠ্য মনে হয়েছে। 
 
আলোচনা সভায় সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রবাসে ছোট গল্পকার সৃষ্টির কথা উল্লেখ করেন লেখক ইকবাল হোসেন।