চিড়িয়াখানায় গরমে ওষ্ঠাগত প্রাণীকুল

আপডেট : ১২ এপ্রিল ২০১৬, ০৯:৫৪
অসহনীয় গরমের প্রভাব পড়েছে ঢাকা চিড়িয়াখানার প্রাণীকূলের ওপর। প্রচণ্ড তাপদাহে প্রাণীদের খাদ্য গ্রহণে অনীহা দেখা দিয়েছে। এ কারণে বিকল্প খাদ্যের ব্যবস্থা করেছে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ। খাদ্য তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে খাবার স্যালাইন, ভিটামিন-সি, মৌসুমী ফল তরমুজ, আনারস, শসা, সফেদা ও বাঙ্গি। আর বিশুদ্ধ শীতল পানি তো থাকছেই।
 
ঢাকা চিড়িয়াখানার কিউরেটর এস এম নজরুল ইসলাম বলেন, এপ্রিল, মে এবং জুন এই তিন মাস গরমের সময় হিসাবে ধরা হয়। এ সময় চিড়িয়াখানার প্রাণীদের শীতল পানি সরবরাহ করা হয়। এছাড়া স্যালাইন এবং মৌসুমী কিছু ফলও দেয়া হয়।
 
জানা গেছে, ঢাকা চিড়িয়াখানায় রয়েছে ১৩৭ প্রজাতির ১ হাজার ৪১৫টি প্রাণী। মাংসাশী প্রাণী ১০ প্রজাতির ৪০টি এবং তৃণভোজী প্রাণী আছে ২৩ প্রজাতির ২২১টি। ক্ষুদ্র স্তন্যপায়ী ও সরীসৃপ আছে ২৫ প্রজাতির ২৪৭টি। পাখি আছে ৫৬ প্রজাতির ১০৬টি। ফিস অ্যাকুরিয়ামে আছে ২৩ প্রজাতির ৮০১টি প্রাণী। কিন্তু তীব্র তাপদাহে অস্বস্তিতে আছে চিড়িয়াখানার এই প্রাণীকূল। তাই গরমে এদের জন্য নেয়া হয়েছে বাড়তি ব্যবস্থা।
 
ঢাকা চিড়িয়াখানার ভেটেরিনারি সার্জন ডা. নাজমুল হুদা জানান, গরমে আমরা সতর্ক থাকি, যাতে প্রাণীদের স্বাস্থ্যের উপর কোন বিরূপ প্রভাব না পড়ে। এ সময় কোন প্রাণী অসুস্থ হয়ে পড়লে চিকিত্সা সেবা দেয়া হয় খুব সকালে অথবা পড়ন্ত বিকালে। গরমে খাদ্য তালিকায় মৌসুমভিত্তিক কিছু নতুন খাবার সংযুক্ত হয়।
 
সরেজমিন চিড়িয়াখানায় গিয়ে দেখা গেছে, গরমে বেশিরভাগ প্রাণী খুঁজছে শীতল ছায়া। তাপদাহে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে বাঘ, সিংহ, ভাল্লুক ও হায়েনা। পাখিদেরও বেড়েছে অস্বস্তি। বিশেষ করে ম্যাকাউ, ইমু, ময়ূর, কেশোয়ারী, উটপাখি, হাড়গিলা, সাদা বক, চন্দনা, টিয়া, মদনটাক, গেটার ফ্লেমিং ও কালো গলার বকেরা অস্থির হয়ে পড়েছে। কেননা অন্যান্য প্রাণীর মতো এদের ঘাম নির্গমন পথ থাকে না। ফলে অনেক সময় এদের ‘হিটস্ট্রোক’ হতে পারে বলে জানা গেছে।
 
তবে তৃণভোজী বিশেষ করে জিরাফ, জলহস্তি ও হাতির তেমন সমস্যা হয় না গরমে। সাদা হনুমান, কালো হনুমান, চিত্রা হরিণ, বানর, উল্লুক প্রভৃতি প্রাণীরও গরমে সমস্যা নেই। কারণ এরা খাদ্য হিসাবে শাকসবজি, ফলমূল, ঘাস, লতাপাতা খেয়ে বেঁচে থাকে।
 
তবে গরমে কিছু সরীসৃপ জাতীয় প্রাণীর সমস্যা দেখা দেয়। বিশেষ করে অজগর ও গোখরা সাপেরা অতিরিক্ত গরমে অস্বস্তিকর অবস্থায় পড়ে। গরমকালে এরা শরীরের খোলস পরিবর্তন করে। এ সময় অজগর ও গোখরা জাতীয় সাপের খাবার গ্রহণের প্রতি অনীহা দেখা দেয়। এরা সাধারণত ঠাণ্ডা গর্তে থাকতে ভালোবাসে। চিড়িয়াখানায় এদের খড় বা অন্যান্য উপাদান দিয়ে সেই ব্যবস্থা করা হয়।
 
ঢাকা চিড়িয়াখানার একজন প্রাণী পুষ্টি কর্মকর্তা জানান, অতিরিক্ত গরমে মাংসাশী ও নানা প্রজাতির পাখির বেশি সমস্যা হয়। এই সমস্যা নিরসনের একমাত্র পথ পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করা। সবসময় দেখভাল করা। নিয়মিতভাবে চিকিত্সা দেয়া। আমরা এসব প্রাণীকে নিয়মিত বিশুদ্ধ পানির সঙ্গে খাবার স্যালাইন দিয়ে থাকি।
 
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক ড. মো. বাকী বিল্লাহ বলেন, ‘গরমে যে কারো বাড়তি পরিচর্যা দরকার। চিড়িয়াখানার প্রাণীদের জন্য তো আরো বেশি পরিচর্যা দরকার। এদের পানিযুক্ত খাবার বেশি দিতে হয়। এছাড়া পানি সরবরাহ নিয়মিত রাখতে হবে।’