নিউইয়র্কে বর্ণিল আয়োজনে বাংলা বর্ষবরণ

আপডেট : ১৭ এপ্রিল ২০১৬, ১৪:২৯
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বাস করলেও এখানকার প্রবাসী বাংলাদেশিরা যে মনেপ্রাণে বাংলাদেশকে ধারণ করেন তার প্রমাণ মেলে পয়লা বৈশাখে। এবারও তার ব্যত্যয় ঘটেনি। বাংলা নতুন বছর ১৪২৩-কে বরণ করতে নানান বর্ণিল অনুষ্ঠান আয়োজন করেন তারা।
 
বাংলা বর্ষবরণ উপলক্ষে প্রতিবছর নিউইয়র্কে বিভিন্ন সংগঠন নানান অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এ বছর বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল পান্তা-ইলিশ ভোজন ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। দুপুর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত সপরিবারে বৈশাখের আমেজে মেতে ছিলেন প্রবাসীরা।
 
বাংলাদেশ সোসাইটি
সাড়ম্বরে বাংলা নতুন বছরকে বরণ করেছে নিউইয়র্কের বাংলাদেশীদের আমব্রেলা সংগঠন বাংলাদেশ সোসাইটি ইন্ক। এ উপলক্ষে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত নিউইয়র্কের উডসাইডের কুইন্স প্যালেসে আয়োজন করা হয় বিভিন্ন অনুষ্ঠানের। অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল পান্তা-ইলিশ আপ্যায়ন। যথারীতি ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও। বাংলাদেশ সোসাইটির সদস্যরা সপরিবারে বর্ষবরণের এই অনুষ্ঠান উপভোগ করেন।
 
সংগঠনের সভাপতি আজমল হোসেন কুনুর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম হাওলাদার ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মনিকা রায়ের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক নির্বাচন কমিশনার নাসির আলী খান পল, বর্তমান ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য এটর্নি মঈন চৌধুরী, সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি ওয়াসি চৌধুরী, বর্তমান সিনিয়র সহ-সভাপতি মহিউদ্দিন দেওয়ান, সহ-সভাপতি ফারুক হোসেন মজমুদার, সহ-সাধারণ সম্পাদক ওসমান চৌধুরী, সাবেক কার্যকরী সদস্য কাজী আজহারুল হক মিলন, এটর্নি পেরি ডি সিলভাসহ অনেকেই।
 
IMG0
 
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, পয়লা বৈশাখ বাঙালীর সার্বজনীন ও অসাম্প্রদায়িক উৎসব। প্রবাসে এই উৎসব পালনের মাধ্যমে আমাদের সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতে পারবো আমরা। নতুন প্রজন্ম বাঙালী সংস্কৃতিতে উজ্জীবিত হবে। বক্তারা বাংলাদেশ সোসাইটির এ উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
 
অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক পর্বে গান পরিবেশন করেন প্রবাসের জনপ্রিয় শিল্পী শাহ মাহবুব, করিম হাওলাদার, ফরহাদ আদনান, মিলন কুমার রায়, ফিলিপ লিটন, নিপা জামান, মিনাসহ আরও অনেকে।
 
অনুষ্ঠানে অতিথিদের সুস্বাদু পান্তা ইলিশ দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়। পান্তা ইলিশের সঙ্গে ছিল নানান রকমের ভর্তা ও ডাল।
 
 
ড্রামা সার্কল
জাঁকজমকপূর্ণ পরিবেশে প্রতিবছরের মত এবারো পয়লা বৈশাখে বাংলা নববর্ষ উদযাপন করলো প্রবাসের অন্যতম সাংস্কৃতিক সংগঠন ড্রামা সার্কল। এ উপলক্ষে এস্টোরিয়ার সাউন্ডভিউ মিলনায়তনে আয়োজন করা হয় বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের। নৃত্য, গান আর পান্তা ইলিশ খাওয়ার আয়োজনে সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত প্রাণের উচ্ছ্বাসে মেতে উঠেছিলেন প্রবাসী বাংলাদেশীরা। গেল প্রায় ২২ বছর ধরে প্রবাসে বাংলা নববর্ষ উদযাপন করে আসছে ড্রামা সার্কল।
 
দিনের কর্মব্যস্ততা শেষে এবং সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে প্রবাসী বাংলাদেশীদের সরব উপস্থিতিতে ভরে ওঠে সাউন্ডভিউ মিলনায়তন। বাঙালী সংস্কৃতির আবহে তৈরি বর্ণিল মঞ্চে ড্রামা সার্কলের সভাপতি ও এনটিভির প্রযোজক আবীর আলমগীরের উপস্থাপনায় শুরু হয় বৈশাখী আয়োজন।
 
নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা ও পেশাজীবীরা সপরিবারে বর্ষবরণের অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
 
এদিন নারীরা পরেন বর্ণিল শাড়ি, পুরুষরা পায়জামা-পাঞ্জাবী। শিশুরাও বাহারী পোষাকে সজ্জিত ছিল। বিশেষ করে ড্রামা সার্কল এর বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে ছিল চিত্তবিলাসী বাংলাদেশিদের উপচে পড়া ভীড়। সুসজ্জিত মানুষের সুসৃংখল অবস্থান পরিবেশকে করে তোলে উৎসবমুখর।
 
অনুষ্ঠানের শুরুতেই পান্তা ইলিশ খাইয়ে অতিথিদের আপ্যায়ন করা হয়। প্রবাসে দুর্লভ মাটির শানকিতে খাবার খেয়ে তৃপ্তির ঢেকুর তোলেন সবাই।
 
IMG1
 
এরপর শুরু হয় পয়লা বৈশাখের মুল পর্ব সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এর আগে মঞ্চে চলে সংক্ষিপ্ত বক্তৃতার পালা। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশ স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেন, নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মো. শামীম আহসান, বিশিষ্ট রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন, মূলধারার রাজনীতিক মো. আমিন উল্লাহ, উৎসব ডটকমের সিইও রায়হান জামান, বিশিষ্ট রিয়েল এস্টেট ইনভেস্টর মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, এখনসময় সম্পাদক কাজী শামসুল হক, চলচ্চিত্র অভিনেত্রী রীনা খান, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো. বিলাল চৌধুরী, অ্যাডভান্সড ডেভেলপমেন্ট টেকনোলজির পরিচালক আরিফ আর. হোসাইন, এসএমপির কর্ণধার আলমগীর খান আলম, চিত্রনায়িকা বিদ্যা সিনহা মীমসহ অনেকে।
 
সঙ্গীত পরিবেশন করেন প্রবাসের নন্দিত কণ্ঠশিল্পী শারমনি মহসীন, কান্তা আলমগীর, লেমন চৌধুরী, মিথুন জব্বার, শাহরিন সুলতানা প্রমূখ। তবলা সঙ্গীতে ছিলেন তপন মোদক।
 
এছাড়া বিভিন্ন সাংস্তৃতিক সংগঠন নৃত পরিবেশন করে। ফ্যাশন ডিজাইনার প্রতিষ্ঠান রুনিজ ডিজায়ারের শিল্পীরা একটি মনোমুগ্ধকর ফ্যাশন শো করে। পরে দর্শকদের শুভেচ্ছা জানান রুনিজ ও শুড্ডো।
 
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে অনুষ্ঠিত হয় র‌্যাফেল ড্র। গো ঢাকা ডটকমের সৌজন্যে র‌্যাফেল ড্রতে প্রথম পুরষ্কার ছিল নিউইয়র্ক-ঢাকা-নিউইয়র্ক এয়ার টিকেট।
 
জেবিবিএ
প্রবাসী বাংলাদেশী ব্যবসায়ীদের সর্ববৃহৎ সংগঠন জ্যাকসন হাইটস বাংলাদেশী বিজনেস এসোসিয়েশন অব নিউইয়র্ক (জেবিবিএ) বর্ষবরণ উপলক্ষে জ্যাকসন হাইটসের ডাইভারসিটি প্লাজায় বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে ঢল নামে প্রবাসী বাংলাদেশীদের।
 
ডাইভারসিটি প্লাজায় নির্মিত মঞ্চে দুপুরের পর থেকে শুরু হয় সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। এতে বৈশাখ ও লোকসঙ্গীত পরিবেশন করে দর্শক মাতিয়ে রাখেন প্রবাসের জনপ্রিয় শিল্পী শান্তনীল ধর, শাহ মাহবুব, রোকসানা মীর্জা, রানু নেওয়াজ, রাজিব ভট্টাচার্য, ঋতুরাজ, প্রীতিরাজ, টেক্সাস থেকে আগত লাবণীসহ অনেকে।
 
IMG2
 
মোশাররফ হোসেনের সঞ্চালনায় বর্ষবরণ উৎসবের উদ্বোধন করেন নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মো. শামীম আহসান। এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেবিবিএ’র সাবেক উপদেষ্টা ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সাঈদ রহমান মান্নান, জেবিবিএ’র সভাপতি জাকারিয়া মাসুদ জিকো, সাধারণ সম্পাদক তারেক হাসান খান, যুগ্ম সম্পাদক ফাহাদ সোলায়মান, বৈশাখী উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ও সাবেক সাংস্কৃতিক সম্পাদক রাশেদ আহমেদ, বর্তমান দপ্তর সম্পাদক মাহমুদ হোসেইন বাদশা, সদস্য  কামরুজ্জামান বাচ্চু ও মোশাররফ হোসেন প্রমূখ।
 
এর আগে অতিথিদের পান্তা-ইলিশ দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়। এ পর্বটি তত্ত্বাবধান করেন দপ্তর সম্পাদক মাহমুদ হোসাইন বাদশা। সার্বিক সহযোগিতা করেন জেবিবিএ’র সিনিয়র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ শাহনেওয়াজ, সহ-সভাপতি মোল্লা এম এ মাসুদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল ফজল দিদারুল ইসলাম, বর্তমান যুগ্ম সম্পাদক ফাহাদ সোলায়মান, কার্যকরী সদস্য কামরুজ্জামান বাচ্চু প্রমূখ।
 
জ্যাকসন হাইটস ক্লাব
এদিকে পয়লা বৈশাখ উদযাপন উপলক্ষে জ্যাকসন হাইটসের প্রাণকেন্দ্র ৭৩ স্ট্রিটে বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করে জ্যাকসন হাইটস ক্লাব। র‌্যালিতে বাঙালী সংস্কৃতির বিভিন্ন স্মারক বহন করা হয়। নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মো. শামীম আহসান, জেবিবিএ’র সভাপতি জাকারিয়া মাসুদ জিকো, সাধারণ সম্পাদক তারেক হাসান খান, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সাঈদ রহমান মান্নান, বিশিষ্ট রিয়েল এস্টেট ইনভেস্টর মো. আনোয়ার হোসেন, ক্লাবের কর্মকর্তারা এবং বিভিন্ন বয়সে নারী-পুরুষ ও শিশু বৈশাখের নতুন পোশাকে র‌্যালিতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।
 
পরে খাবার বাড়ি সংলগ্ন স্থানে নির্মিত মঞ্চে চলে বৈশাখের গান। এতে সঙ্গীত পরিবেশন করেন প্রবাসের জনপ্রিয় শিল্পী শাহ মাহবুব ও রোকসানা মীর্জা।