বিনামূল্যে মৌলিক অনলাইন সেবা ফ্রি বেসিকস ইস্যুতে শুনতে হয়েছে ভারতের ‘না’। ইন্টারনেট-সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম কেন্দ্রস্থল দেশটিতে নেতিবাচক অভিজ্ঞতার পরও এশিয়ায়ই মনোযোগ ফেসবুকের। শীর্ষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমটি পৃথিবীর এ প্রান্তেই অপারসম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির মতে, বিপুল জনসংখ্যার কারণেই এশিয়ায় ইন্টারনেটের প্রসার বৃদ্ধি পাওয়ার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।
এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের জন্য ফেসবুকের ভাইস প্রেসিডেন্ট ড্যান নিয়ারি সম্প্রতি এক সংবাদ মাধ্যমে বলেন, ‘ইন্টারনেট খাতে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের সম্ভাবনা পৃথিবীর অন্যান্য অঞ্চলের চেয়ে অনেক বেশি। কারণ এখানেই বিশ্বের দুই-তৃতীয়াংশ মানুষের বাস। এ বিপুল জনসংখ্যাই অঞ্চলটির প্রধান সম্পদ। সুতরাং এ এলাকায় ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা অনেক; যা আমাদের আশাবাদী করে তুলেছে।’
ড্যান নিয়ারি জানিয়েছেন, এশিয়ায় ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা অন্য অঞ্চলের তুলনায় অধিক দ্রুতগতিতে বাড়ছে। ‘ফেসবুকের বর্তমান ব্যবহারকারীর মোট সংখ্যা ১ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন। এর মধ্যে প্রায় ৫৪০ মিলিয়নই এশিয়ার। এটি গত ডিসেম্বরের হিসাব। আর এক বছর আগে সংখ্যাটি ছিল ৪৪৯ মিলিয়ন’— বলেন তিনি।
ফেসবুকের সিইও মার্ক জাকারবার্গের দেয়া তথ্যমতে, প্রতিষ্ঠানটির ফ্রি বেসিকস কর্মসূচির আওতায় বিশ্বজুড়ে অনেক মানুষকে ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত করা সম্ভব হয়েছে। বলা হচ্ছে, ৩৮টি দেশের প্রায় ১৯ মিলিয়ন মানুষ এর ফলে ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত হতে পেরেছে, যা তাদের জীবনযাপনের সামগ্রিক উন্নয়নেও ভূমিকা রাখছে।
ইন্টারনেট ডট অর্গের মাধ্যমে একই সুবিধা ফেসবুক চালু করতে চেয়েছিল ভারতেও। কিন্তু গত মাসে ভারতের টেলিকম রেগুলেটরি অথরিটির (টিআরএআই) বিরুদ্ধে মত দেয়। সংস্থাটির বক্তব্য, এতে দেশটিতে বিদ্যমান ইন্টারনেট নিরপেক্ষতা (নেট নিউট্রালিটি) ভঙ্গ হবে এবং ব্যবসা ক্ষেত্রে সব প্রতিষ্ঠানের সমান অবস্থান বিনষ্ট করবে। এর পরিপ্রেক্ষিতে মার্ক জাকারবার্গ হতাশা ব্যক্ত করলেও ভারত ও সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে ইন্টারনেটের প্রসারে কাজ চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন।
