কারারক্ষী-ছাত্রদল সংঘর্ষ, প্রধান কারারক্ষীসহ আহত ৫

আপডেট : ১৮ এপ্রিল ২০১৬, ১৯:৩২
খুলনায় কারাবন্দি নেতাদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে কারারক্ষীদের সঙ্গে জেলা ছাত্রদল নেতাকর্মীদের সংঘর্ষে হয়েছে। এতে প্রধান কারারক্ষীসহ উভয় পক্ষের ৫ জন আহত হন।
 
সোমবার দুপুর ১টার দিকে খুলনা জেলা কারাগারের প্রধান ফটকে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় কারারক্ষীরা ছাত্রদলের দুই নেতাকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে। সংঘর্ষে আহতরা হলেন- জেলা ছাত্রদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদুল হাসান বিপ্লব, সহ-সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম, সহ-ক্রীড়া সম্পাদক শেখ ফারুক হোসেন, সদস্য ওয়াহিদুজ্জামান সোহাগ ও রুবায়েত হোসেন রাসেল এবং জেলা কারাগারের প্রধান কারারক্ষী মো. হাদিউজ্জামান। এর মধ্যে ছাত্র নেতা ওয়াহিদুজ্জামান সোহাগ ও রুবায়েত হোসেন রাসেলকে আটক করা হয়েছে।
 
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার দুপুর ২টার দিকে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এস এম শফিকুল আলম মনাসহ কয়েকজন ছাত্রদল নেতাকর্মী কারাবন্দি নেতাকর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে খুলনা জেলা কারাগারে যান। তারা ৩শ’ টাকার বিনিময়ে টিকিট কেটে ডেপুটি জেলারের কক্ষের সামনের জানালায় অপেক্ষা করছিলেন। এক পর্যায়ে লোকজনের ভিড় কমাতে কারারক্ষীরা নেতাকর্মীদের বাইরে বের করে দেন। এ নিয়ে ছাত্রদল নেতাদের সঙ্গে কারারক্ষীদের বাক-বিতণ্ডা ও হাতাহাতি হয়। একপর্যায়ে কারারক্ষীরা লাঠিচার্জ  করে। 
 
আহত জেলা ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, তিনিসহ ৭-৮ জন নেতাকর্মী কারাবন্দি জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি বুলবুলের সঙ্গে দেখা করার জন্য ৩শ’ টাকার বিনিময়ে টিকিট কেটে ডেপুটি জেলারের কক্ষের সামনে জানালায় অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় জেল সুপার কামরুল ইসলাম এসে তাদের বের করে দেয়ার চেষ্টা করেন। এতে তারা প্রতিবাদ করলে কারারক্ষীরা তাদের ওপর চড়াও হন।
 
জেল সুপার কামরুল ইসলাম বলেন, ৩০-৩৫ জন লোক বন্দিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার জন্য জোর করে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করে। এ সময় প্রধান ফটকে বাধা দিলে তারা হামলা চালায়। হামলায় প্রধান কারারক্ষী হাদিউজ্জামান হাত ও মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত হন। তাকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় আটককত দু’জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো ৩০-৩৫ জনের নামে মামলা দেয়া হয়েছে।