ইবিতে ভিসি ও প্রো-ভিসি গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ৬

আপডেট : ০৪ মে ২০১৬, ১২:৫৮
 
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ভিসি গ্রুপের কর্মকর্তাদের ওপর হামলা করেছে প্রো-ভিসি গ্রুপের কর্মকর্তারা। এতে ভিসি গ্রুপের মোর্শেদসহ ছয়জন কর্মকর্তা আহত হয়েছেন। বুধবার উভয় গ্রুপের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে এই হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
 
বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ভিসি প্রফেসর ড. আবদুল হাকিম সরকারের অপসারণে দাবি করে প্রো—ভিসি সমর্থকরা মানববন্ধন কর্মসূচি দেয়। অন্যদিকে  উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শাহিনুর রহমানের অপসারণের দাবি করে পাল্টা মানববন্ধন কর্মসূচির ডাক দেয় ভিসি সমর্থক শিক্ষক-কর্মকর্তারা। আজ বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষদ ভবনের সামনে এ মানববন্ধন হবার কথা ছিল।
 
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উপাচার্য গ্রুপের কর্মসূচির প্রতিবাদে একই সময়ে পাল্টা কর্মসূচির ডাক দেয় প্রো-ভিসি  শিক্ষক-কর্মকর্তা ও ছাত্রলীগের একাংশ। এ নিয়ে উপাচার্য ও উপ-উপাচার্য সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। সকাল থেকেই প্রো-ভিসি সমর্থক শিক্ষক-কর্মকর্তা ও ছাত্রলীগ বিশ্ববিদ্যালয়ের ডায়না চত্বরের পাশে অবস্থান নেয়। এসময় উপাচার্য সমর্থক ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাদের দলীয় টেন্টে অবস্থান নেয়।
 
IMG0
 
সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ভিসি সমর্থক কর্মকর্তা মোর্শেদ খান বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা মানববন্ধনে যোগগদানের জন্য প্রশাসন ভবন থেকে বের হলে প্রো-ভিসি কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন খান, উপ-চার্যের ব্যাক্তিগত সহকারী আ: হান্নান, আসাদুজ্জামান মাখনসহ বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা ও ছাত্রলীগ তাদেরকে ধাওয়া করে। এসময় উপ-উপাচার্য সমর্থক কর্মকর্তাদের আঘাতে উপাচার্য গ্রুপের কর্মকর্তা মোর্শেদ খান, এস্টেট শাখার হারুন উর রশিদ, উপাচার্যের পিএস মনিরুল ইসলাম, রেজিস্ট্রারের পিএস আনোয়ার হোসেনসহ ছয়জন আহত হয়। আহতদের মধ্যে মোর্শেদের অবস্থা গুরুতর। মোর্শেদ খান বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু পরিষদের একাংশের সাংগঠনিক সম্পাদক। এছাড়া মনিরুল ইসলাম ও হারুন অর রশিদ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। আহতদের বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিত্সা কেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিত্সা দেয়া হয়েছে। এ নিয়ে উভয় গ্রুপের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। 
 
এ বিষয়ে প্রক্টর প্রফেসর ড. মাহবুবর রহমান বলেন, যেহেতু উভয় গ্রুপের মধ্যে একটু মতবিরোধ হয়েছে। তাই সবাই যাতে নির্বিঘ্নে মত প্রকাশের স্বাধীনতা পায় সেজন্য প্রক্টরিয়াল বডি ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।