বাংলাদেশে সন্ত্রাসী হামলার ষড়যন্ত্র করছিল, এমন অভিযোগে সিঙ্গাপুরে দুই দফায় ৪০ জন উগ্রপন্থি বাংলাদেশিকে আটকের পর সেখানে প্রায় দেড় লাখ প্রবাসী বাংলাদেশির মধ্যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। তারা উগ্রপন্থিদের কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানিয়েছেন। একইসঙ্গে একটি ছোট গোষ্ঠীর কর্মকাণ্ডের জন্য সব বাংলাদেশিকে একইরকম না ভাবার জন্য সিঙ্গাপুরের জনগণের প্রতি আহবান জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার সিঙ্গাপুর কর্তৃপক্ষ সেখানে অবস্থানরত আটজন বাংলাদেশিকে আটকের খবর জানায়। সেখান থেকে ফেরত পাঠানো আরো পাঁচজন বাংলাদেশিকে মঙ্গলবার ঢাকা পুলিশ আটক করে। গতকাল বুধবার আটক পাঁচ বাংলাদেশিকে সাতদিন করে রিমান্ডে নেয়ার আদেশ দিয়েছে আদালত। এর আগে জানুয়ারিতে একই ধরনের অভিযোগে ২৭ জনকে আটকের পর বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়।
সিঙ্গাপুর বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ শাহেদুজ্জামান বিবিসিকে বলেন, যদিও এরা খুবই ক্ষুদ্র একটি গোষ্ঠী, কিন্তু বারবার এ ধরনের ঘটনায় সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশ কম্যুনিটির উপর কোনো প্রভাব পড়ে কিনা, তা নিয়ে তারা শঙ্কায় রয়েছেন। তিনি বলেন, সিঙ্গাপুরে সবাই খুবই শান্তিপূর্ণ। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে কাউকে কটাক্ষ করার কোনো সুযোগ নেই। কিন্তু পরপর দুটি ঘটনায় সিঙ্গাপুরের জনগণের মধ্যে হয়তো বাংলাদেশিদের নিয়ে একটি নেতিবাচক মনোভাব তৈরি হতে পারে।
দুই দফায় বাংলাদেশি উগ্রপন্থিদের আটকের পর সেখানে অবস্থানরত বাংলাদেশি কর্মীদের সতর্ক ও সজাগ থাকার পরামর্শ দিয়েছেন সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশের হাইকমিশনার মাহবুব-উজ-জামান। একইসঙ্গে কোনো সহকর্মী উগ্রপন্থার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে এমন সন্দেহ হলে বাংলাদেশি কর্মীদের সে বিষয়ে তথ্য দিতে বলেছেন। মঙ্গলবার ‘দ্য স্ট্রেট্স্ টাইম্স’কে তিনি বলেন, উগ্রপন্থিদের বিষয়ে বাংলাদেশিদের তথ্য দেয়ার এক ধরনের দায়বদ্ধতা রয়েছে। যেখানে আমরা কাজ করছি সে দেশের আইন মান্য করা আমাদের দায়িত্ব।
আট বাংলাদেশি তিন থেকে ১০
বছর সিঙ্গাপুরে কাজ করেছে
সিঙ্গাপুরের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, জঙ্গি সম্পৃক্ততার অভিযোগে আটক আট বাংলাদেশি কর্মী গত তিন থেকে ১০ বছর দেশটিতে কাজ করে আসছিলেন। অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা আইনে গত এপ্রিলে তাদের আটক করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় বলেছে, যে ব্যক্তি ইসলামিক স্টেট অব বাংলাদেশ (আইএসবি) গঠন করেছেন তিনি যখন সিঙ্গাপুরে এসেছিলেন তখন উগ্রপন্থা বা জঙ্গি সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত ছিলেন না। গত কয়েক মাস আগে তারা বিভিন্ন পার্ক বা মাঠে মিলিত হতেন। এ সময় তারা অস্ত্র ব্যবহার ও বোমা তৈরির পদ্ধতি সংক্রান্ত দলিলপত্র এবং উগ্রপন্থি বইপত্র আদান-প্রদান করতেন। সংগঠনের নিজস্ব পরিচালনা কাঠামো ছিল। গতকাল সিঙ্গাপুরের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গণমাধ্যমকে এ কথা জানিয়েছে।
দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কে. শানমুগান গতকাল বলেছেন, সর্বশেষ আটকের ঘটনা হলো বিশ্বব্যাপী উগ্রপন্থা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এক সতর্কবার্তা।
