প্রথম প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ বাংলালিংকের

আপডেট : ১৬ মে ২০১৬, ১৬:৫৯
চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকের (জানুয়ারি-মার্চ, ২০১৬) আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করলো ডিজিটাল কমিউনিকেশন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বাংলালিংক। ৩ কোটি ১৬ লক্ষ গ্রাহক নিয়ে বাংলালিংক-এর রাজস্ব ও (ইবিআইটিডিএ) ঊইওঞউঅ বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।
 
বাংলালিংক আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ও প্রযুক্তি কোম্পানি ভিম্পেলকম-এর একটি অংশ, যা বিশ্বের ১৪টি দেশের গ্রাহকদের ডিজিটাল বিশ্বে নিয়ে আসতে অঙ্গীকারবদ্ধ।
 
প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক এরিক অস্ বলেন, ‘২০১৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে আমাদের মোট রাজস্ব আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,২২০ কোটি টাকা যা গত বছরের প্রথম প্রান্তিকের তুলনায় ৬% বেশি। গত বছরের প্রথম প্রান্তিকের তুলনায় ডাটা রাজস্বে ৬০% বৃদ্ধি এবং ভয়েস রাজস্বে ৩% বৃদ্ধির  মাধ্যমে এই রাজস্ব অর্জন সম্ভব হয়েছে।’
 
ডাটা ব্যবহার এবং ডাটা ব্যবহারকারীর বৃদ্ধির ফলে ২০১৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে বাংলালিংক-এর ডাটা রাজস্ব আয় বেড়েছে। বাংলালিংকের দেশব্যাপি থ্রিজি কাভারেজ বৃদ্ধি এবং একইসাথে দেশের টেলিকম শিল্পে স্মার্টফোনের ব্যবহার বৃদ্ধির ফলে বাংলালিংক-এর ডাটা ব্যবসায় একটি বড় অগ্রগতি দেখা গিয়েছে। গ্রাহকদের বর্ধিত ব্যবহারের ফলে বাংলালিংকের ভয়েস রাজস্ব আয় বেড়েছে। আগ্রাসী মূল্য প্রতিযোগিতা সত্ত্বেও এই প্রান্তিকে বাংলালিংক-এর অজচট (আবৎধমব জবাবহঁব চবৎ টংবৎ) ৪% বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ডাটা ব্যবহারের অব্যাহত বৃদ্ধির মাধ্যমেই এসেছে।
 
কঠোর বয়োমেট্রিক ভেরিফিকেশন পদ্ধতির কারণে গোটা টেলিকম শিল্পেই গ্রাহক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়েছে এবং ২০১৫ সালের প্রথম প্রান্তিকের তুলনায় এই প্রান্তিকে বাংলালিংক-এর গ্রাহক সংখ্যার প্রবৃদ্ধি সামান্য হ্রাস পেয়েছে। তবে, মোবাইল নিরাপত্তার এই উদ্যোগে বাংলালিংক ১৫ মে ২০১৬ পর্যন্ত ২.৫ কোটি গ্রাহকের বয়োমেট্রিক রি-ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছে। বাংলালিংক বিশ্বাস করে যে, মোবাইল রি-ভেরিফিকেশন উদ্যোগের ফলে নিরাপদ গ্রাহকের যে ভিত্তি পাওয়া যাবে যেখান থেকে আমাদের ডিজিটাল নেতৃত্ব অর্জনের কৌশল অনুসরণ করে ই-কমার্স, কনটেন্ট ও পেমেন্ট সলিউশন থেকে নতুন রাজস্ব আয়ের উৎস সৃষ্টি করা যাবে।
IMG0
এককালীন কিছু পারফরমেন্স ট্রান্সফরমেশন ব্যয় ছাড়া বাংলালিংক প্রথম প্রান্তিকে ৫৯০ কোটি টাকার ঊইওঞউঅ অর্জন করেছে যা গত বছরের প্রথম প্রান্তিকের তুলনায় ২৬% বৃদ্ধি নির্র্দেশ করে। এই বৃদ্ধি রাজস্ব বৃদ্ধির এবং একই সাথে ঙঢ়বী নিয়ন্ত্রণ উদ্যোগ মূলত রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় অপটিমাইজেশন এর মাধ্যমে অর্জিত হয়েছে। ফলাফল স্বরূপ এই প্রান্তিকে বাংলালিংকের ঊইওঞউঅ মার্জিন ৪৮.১%-তে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে। প্রথম প্রান্তিকে বাংলালিংক-এর মূলধনী ব্যয় ছিল ১৩০ কোটি টাকা যা গত বছরের তুলনায় ৪৪% শতাংশ বেশি। প্রথম প্রান্তিকের শেষ পর্যন্ত বাংলালিংক-এর থ্রিজি নেটওয়ার্ক দেশের মোট জন সংখ্যার ৩৪% এর কাছে পৌঁছেছে।
 
বাংলালিংক গ্রাহকদের ভবিষ্যতের ডিজিটাল দুনিয়ায় সংযুক্ত করতে চায় এবং গ্রাহকদের জন্য অসীম সম্ভাবনা উন্মুক্ত করতে চায়। এই লক্ষ্য অর্জনে বাংলালিংক ডিজিটাল যুগের গ্রাহকদের চাহিদা মেটাতে নিজেকে প্রস্তুত করছে। এরিক অস্ বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, ডিজিটাল সেবাদানই ভবিষ্যতের পথ।’
 
তিনি আরও বলেন, ‘স্মার্টফোনের ব্যবহার দারুণ বৃদ্ধি পাবে এবং গ্রাহকরা সত্যিকারভাবেই তাদের আঙুলের ডগায় তাদের ডিজিটাল জীবনকে পাবেন যাতে থাকবে- বিনোদন থেকে ই-কমার্স, আর্থিক সেবা থেকে ব্যক্তিগত সেবা। আমাদের গ্রাহকদের জন্য এটি বাস্তব করতে বাংলালিংক-এ আমরা আমাদের সেবা ও পণ্যের পাশাপাশি থ্রিজি এবং আমাদের প্রতিষ্ঠানে ব্যাপকভাবে বিনিয়োগ করছি।’
 
ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে আইসিটি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় বাংলালিংক ‘কানেকটিং স্টার্ট আপ বাংলাদেশ’ প্রকল্পের মাধ্যমে একটি ডিজিটাল ইনকিউবেশন কেন্দ্র শুরু করেছে যা, দেশব্যাপী উদ্ভাবনী ব্যবসাগুলোকে সফল হতে সব রকম সহযোগিতা করবে। ২০ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী বাংলালিংক-এর গ্র্যান্ডমাস্টার আইডিয়া প্রতিযোগিতায় তাদের মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনের আইডিয়া জমা দেন, যা লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন পরিবর্তন করতে পারে। ডিজিটাল বাংলাদেশের আরেকটি উদ্যেগে, বাংলালিংক ইন্টারনেট অ্যাওয়ারনেস ক্যাম্পেইনে ৩ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থী প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।
 
এরিক অস্ বলেন, ‘বাংলালিংক-এর এই ডিজিটাল অগ্রযাত্রার মধ্যে কোম্পানির অগ্রগতি জানাতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত। আমি সত্যিকারভবেই বিশ্বাস করি যে, আমরা গ্রাহকদের ডিজিটাল সেবাদানকারী হিসেবে, শেয়াহোল্ডারদের কাছে লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে এবং ২০২১ সালের মধ্যে সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়া স্বপ্ন বাস্তাবয়নে সহযোগি হিসেবে বাংলালিংককে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হবো।’