কুদরত ফকির (১৩)আর দশটা শিশুর মত স্বাভাবিকভাবে জন্ম নিয়েছিল। কিন্তু জন্মের কিছুদিন পর পোলিও রোগে আক্রান্ত হয়ে তার নাম ওঠে প্রতিবন্ধীর খাতায়। সেই থেকে শিশু কুদরত হতদরিদ্র বাবা-মায়ের সংসারে রীতিমত বোঝায় পরিণত হয়েছে। প্রতিবন্ধী কুদরত ফকির কুষ্টিয়া মিরপুর উপজেলার ফুলবাড়ীয়া ইউনিয়নের ন্ওদাপাড়া গ্রামের ইউনুচ ফকির ও কুলসুম বেগমের ছেলে।
মা কুলসুম বেগম (৪০) জানান, কুদরতের বাবা পরিবারের কোন খোঁজ নেয়না। সরকারিভাবে প্রতিবন্ধীদের জন্য ভাতার ব্যবস্থা থাকলেও কুদরতের জন্য কোন সরকারি সাহায্য সে পায়নি। কুলসুম আরো জানান, গরীব হওয়া সত্বেও সংসার চালাতে তিনি ভিক্ষাবৃত্তি পেশায় পা না বাড়িয়ে অন্যের বাড়িতে কাজ করেন। আর তামাক চাষের সময় বিভিন্ন তামাক কোম্পানীর তামাক গোডাউনে কাজ করে প্রতিদিন যা রোজগার করেন তা দিয়েই চলে প্রতিবন্ধী সন্তানকে নিয়ে তার কষ্টের জীবন।
বর্তমানে কুলসুম বেগম কুষ্টিয়া শহর তলীর মঙ্গলবাড়ীয়ায় বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হিসাবের তামাকের গোডউনে ১৪০ টাকা দিন হাজিরায় কাজ করছেন। প্রতিদিন সকালে তার প্রতিবন্ধী ছেলে কুদরতকে কোলে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে কখনো বাস, অটো অথবা ভ্যানে ২৫ কিলোমিটার দুরে তার কর্মস্থলে যান কুলসুম। উপার্জিত অর্থের মধ্যে যাতায়াত বাবদ পরিবহন খরচ বাদে যা থাকে তা দিয়েই সংসার চলে।
দীর্ঘদিন যাবৎ অভাব-অনটনের সঙ্গে বসবাস করতে করতে নিজের শরীর চালানোই যেখানে দায়, সেখানে আবার ১৩ বছরের পোলিও আক্রান্ত প্রতিবন্ধী শিশুকে নিয়ে চলাটা কুলসুম বেগমের কাছে এখন রীতিমত বোঝার কষ্টকর ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই সমাজের হৃদয়বান ব্যাক্তিদের কাছে তিনি তার প্রতিবন্ধী শিশুর জন্য একটি হুইল চেয়ার ও আর্থিক সাহায্যের আবেদন করেছেন।
