দাদরি কাণ্ড : মাংসের ফরেনসিক রিপোর্ট নিয়ে ফের বিতর্ক

আপডেট : ০১ জুন ২০১৬, ১৫:৪৪
 
ভারতের উত্তরপ্রদেশের দাদরিতে মুহম্মদ আখলাক হত্যার প্রায় আট মাস পেরিয়ে গেছে। গত সেপ্টেম্বর মাসে আখলাকের ঘরে গরুর মাংস রাখা আছে এই অভিযোগে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছিল ৫২ বছর বয়সী আখলাককে।
 
এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আখলাকের লাশের ফরেনসিক রিপোর্টের চেয়েও বেশি আলোচিত হয়েছে তার বাড়ির ফ্রিজে রাখা মাংসের ফরেনসিক রিপোর্ট! আট মাস পর সেই মাংসের নয়া ফরেনসিক রিপোর্ট নিয়ে ফের বিতর্ক শুরু হয়েছে।
 
গত সেপ্টেম্বর মাসে ওই হত্যাকাণ্ডের পর ফ্রিজে রাখা মাংস প্রথমে পরীক্ষা করেন গ্রেটার নয়ডার এক ভেটেরিনারি অফিসার। তাঁর রিপোর্টে বলা হয়েছিল, ওটা পাঁঠার মাংস। তখন ক্ষমতাসীন সমাজবাদী পার্টিসহ সব দল সমস্বরে অভিযোগ তুলেছিল বিজেপি ও আরএসএস এর বিরুদ্ধে। সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের লক্ষ্যেই গোহত্যার গুজব ছড়ানো হয়েছে এই ছিল প্রতিষ্ঠিত। এখন রাজ্য সরকারেরই অধীনে থাকা ল্যাবরেটরি উল্টো এক ফরেনসিক রিপোর্ট দিয়েছে। এবারের রিপোর্ট বলছে, গরুর মাংস বা সেই গোত্রেরই কোনও মাংস ছিল তাঁদের বাড়ির ফ্রিজে।
 
নিহত আখলাকের ভাই চাঁদ মহম্মদের বরাত দিয়ে ভারতের গণমাধ্যম জানায়, 'দাদরি পুলিশ প্রথমে বলেছিল, ওটা পাঁঠার মাংস। কিন্তু এখন বলা হচ্ছে, গরুর মাংস। পুরোটাই আসলে রাজনীতি।'
 
এ বিষয়ে রাজ্যের পুলিশ-প্রধান জাভেদ আহমেদ বলেছেন, 'প্রথমে জানা গিয়েছিল, ওটা পাঁঠার মাংস। এখন রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে, ফ্রিজে গরুর মাংস বা সেই গোত্রের মাংস ছিল। তাতে অবশ্য এক জনকে পিটিয়ে মেরে ফেলার মতো ঘটনা লঘু হয়ে যায় না।'
 
আখলাকের পরিবারের আইনজীবী ইউসুফ সইফি বলেছেন, 'মথুরার ল্যাবরেটরি মাংস নিয়ে কী বলল, তাতে কিছু আসে যায় না। মামলাটা হত্যার এবং প্রশাসন ও তদন্তকারীও সেটা মানছেন।'