পাকিস্তানে অনার কিলিংয়ের শিকার গর্ভবতী নারী

আপডেট : ১৭ জুন ২০১৬, ২০:১৯
পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চলে এক গর্ভবতী নারী অনার কিলিংয়ের শিকার হয়েছেন। পরিবারের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিয়ে করার 'অপরাধে' আত্মীয়-স্বজনরা তাকে গলা কেটে হত্যা করেছে।
 
পরিবারের সম্মান রক্ষার নামে এ ধরনের হত্যাকাণ্ড দেশটিতে একটি সাধারণ ঘটনা।
 
পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আরশাদ এএফপিকে বলেন, মুকাদ্দাস বিবি (২২) তিন বছর আগে পরিবারের অমতে তৌফিক আহমদকে বিয়ে করেন। মুকাদ্দাসের আত্মীয়-স্বজনরা ভালবেসে বিয়ে করাকে লজ্জাজনক মনে করে। বিয়ের পর পরিবারের সঙ্গে মুকাদ্দাসের সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যায়।
 
তিনি বলেন, মুকাদ্দাস দ্বিতীয় সন্তানসম্ভবা ছিলেন। এ কারণে তিনি বৃহস্পতিবার একটি ক্লিনিকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য আসেন। তার মা ও ভাইও ওই ক্লিনিকে যান এবং মুকাদ্দাসকে তারা মেনে নেবেন বলে জানান। এরপর তারা তাকে বাবার বাড়ি যাওয়ার জন্য রাজি করান।
 
স্থানীয় থানার প্রধান গোহার আব্বাস বলেন, মুকাদ্দাস বাবা-মার বাড়িতে আসার পরপরই তার বাবা, মা ও ভাই ছুরি দিয়ে তার গলা কেটে দেয় এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। মুকাদ্দাসের ১০ মাসের একটা কন্যা সন্তান রয়েছে এবং তিনি সাত মাসের গর্ভবতী ছিলেন।
 
আব্বাস বলেন, পাঞ্জাব প্রদেশের রাজধানী লাহোরের প্রায় ৭৫ কিলোমিটার উত্তরে বাত্তারানওয়ালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। হত্যাকাণ্ডের পর মুকাদ্দাসের পরিবারের সদস্যরা পালিয়েছে।
 
পাকিস্তানে প্রতিবছর শতশত নারী অনার কিলিংয়ের শিকার হন। গত সপ্তাহে নিজের পছন্দ অনুযায়ী বিয়ে করার 'অপরাধে' ১৬ বছরের কিশোরী জিনাত বিবি অনার কিলিংয়ের শিকার হন।