কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যাকাণ্ডের ৩ মাসেও আসামি শনাক্ত বা গ্রেফতার হয়নি। দুই দফা ময়না তদন্ত প্রতিবেদনে মৃত্যুর কারণও চিহ্নিত করতে পারেনি ফরেনসিক বিভাগের ডাক্তাররা। এর প্রতিবাদে ও ঘাতকদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে বিচারের দাবিতে গণজাগরণ মঞ্চ-কুমিল্লার আয়োজনে গতকাল সোমবার নগরীর কান্দিরপাড় পূবালী চত্বরে প্রতিবাদী অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়। ক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে কুমিল্লা মহানগরীর কেন্দ্রস্থল কান্দিরপাড় এলাকা। এতে অংশ নিয়ে তনুর মা বলেন, তারা সরকারের বিরুদ্ধে কোনো কথা বলছেন না। কেবল মেয়ে হত্যার ন্যায়বিচার দাবি করছেন। তনুর পরিবার ছাড়াও জেলার বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন কলেজের প্রতিবাদী শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নেয়।
তনুর মা আনোয়ারা বেগম অভিযোগ করে বলেন, ওরা তদন্তের কথা বলে বাসা থেকে তনুর ডায়েরি, অ্যালবাম সবকিছু নিয়ে গেছে, তার আর কোনো স্মৃতিচিহ্নই বাসায় নেই। মেয়ে হত্যার বিচার চাইতে গিয়ে আমরা হুমকির মুখে রয়েছি। তনুর বাবাকে গাড়ি চাপা দিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘তনুর বাবাকে মিডিয়ার সাথে কথা বলতে দেয়া হচ্ছে না। আমরা আগেও সরকারের বিরুদ্ধে কিছু বলিনি, এখনো বলছি না। যারা তনুকে হত্যা করেছে তাদের উপযুক্ত শাস্তি হোক। কিন্তু তনুর খুনিদের না ধরে উল্টো আমাদের পাহারায় রাখা হচ্ছে। বাসার ডিশ লাইন কেটে দেয়া হয়েছে যেন তনু সংক্রান্ত সংবাদ দেখতে না পারি।’ ময়না তদন্ত প্রতিবেদন ভুল ও সাজানো দাবি করে তিনি চিকিত্সকদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে আরো বলেন, ‘চিকিত্সকদের সাথে ঘাতকদের আঁতাত থাকায় বানোয়াট রিপোর্ট দেয়া হয়েছে।’ তিনি মেয়ে হত্যাকারীদের দ্রুত বিচার দাবি করেন।
ওই প্রতিবাদ সমাবেশে তনুর ছোট ভাই আনোয়ার হোসেন রুবেলও উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন গণজাগরণ মঞ্চ কুমিল্লার মুখপাত্র খায়রুল আনাম রায়হান, সংগঠক আবুল কাশেম হূদয়, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি কুমিল্লা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক পরেশ রঞ্জন কর, মুক্তিযোদ্ধা মোতাহার হোসেন বাবুল, মোতাহার হোসেন, তনুর ছোট ভাই আনোয়ার হোসেন রুবেল প্রমুখ। এদিকে তনু হত্যা মামলার অগ্রগতির বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডি-কুমিল্লার পরিদর্শক গাজী মোহাম্মদ ইব্রাহিম সাংবাদিকদের জানান, ‘মেডিক্যাল বোর্ড থেকে পাওয়া ২য় ময়না তদন্ত প্রতিবেদনই মামলার তদন্তের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত কিছু নয়। তদন্ত একটি চলমান প্রক্রিয়া। ময়না তদন্তের প্রতিবেদনে যা-ই থাকুক না কেন ঘাতকদের চিহ্নিত করতে সন্দেহভাজনদের ডিএনএ’র সহায়তা নেয়া হবে।’
উল্লেখ্য, গত ২০ মার্চ রাতে কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরের একটি কালভার্টের পাশের জঙ্গল থেকে তনুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
