উল্লেখ্য, প্রায় ৮৫ বছর বয়সী রনাঙ্গনের এই মুক্তিযোদ্ধা জীবণ সায়াহ্নে এসেও জীবন-জীবিকার তাগিদে বঙ্গবন্ধু সুপার মাকের্ট সংলগ্ন ফুটপাতে ফুটপাতে বসে জুতা-স্যান্ডেল সেলাইয়ের কাজ করেন। তিনি চোখে ভালমত দেখেন না,শারিরিক সক্ষমতাও অনেকটা হারিয়ে ফেলেছেন। তবুও খেয়ে-পরে জীবনে বাঁচার নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। বয়োবৃদ্ধ এই মুক্তিযোদ্ধার প্রতি যেন নেই কারো কোন দায়। নিরক্ষর মুক্তিযোদ্ধা কাজী আব্দুল বারেক জানান, স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ গ্রহনের পূর্বে তিনি ভারতের চাকুলিয়ায় প্রশিক্ষণ গ্রহন করেন এবং মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি অংশ নেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, কোন কিছু পাওয়ার জন্য মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহন করিনি। ফলে মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে সনদপত্র নেয়ার চেষ্টা ও প্রয়োজনীয়তা অনুভব করিনি। অশীতিপর এই মুক্তিযোদ্ধা এখন জীবন-যুদ্ধে হেরে যেতে বসেছেন। স্বাধীনতার ৪৫ বছর পরও তিনি সরকারী গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা হতে পারেন নি। বঙ্গবন্ধু সুপার মার্কেটের পাশে ফুটপাতে বসে ২৫ বছর যাবত কাজী আব্দুল বারেক জুতা-স্যান্ডেল সেলাইয়ের কাজ করেন। এর আগে তিনি জুতা-স্যান্ডেলের ব্যবসা করতেন। কিন্তু পুঁজি হারিয়ে ওই ব্যবসা বন্ধ হওয়ার পর থেকে তিনি জুতার কারিগর হিসাবে কাজ শুরু করেন। শহরের মানুষ ওই মুক্তিযোদ্ধাকে মুচি হিসাবেই চেনে ও জানে। তিনি শহরের মিলপাড়ার রামচরণ চৌধুরী লেন এলাকায় অর্পিত সম্পত্তির একটি লিজ বাড়িতে কোনমতে বসবাস করেন। কুষ্টিয়া জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের ডেপুটি কমান্ডার প্রয়াত এহসানুল হক রতন ২০০৫ সালে মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে কাজী আব্দুল বারেককে প্রত্যায়ন পত্র প্রদান করেন। ওই প্রত্যয়ন পত্রের ভিত্তিতে ২০০৫ সালে ২৭ সেপ্টেম্বর কাজী আব্দুল বারেক মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় তার নাম অন্তর্ভুক্তির ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসকের দপ্তরে আবেদন করেন। কিন্তু পরবর্তীতে বিষয়টি আর এগোয় নি।
কুষ্টিয়ার পাদুকা সেলাই কারিগর মুক্তিযোদ্ধা কাজী আব্দুল বারেক পেলেন সন্মাননা ও আর্থিক সাহায্য। গতকাল রবিবার সকালে কুষ্টিয়া প্রেস ক্লাবের আব্দুর রাজ্জাক মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে আর্থিক সাহায্যের নগদ টাকা তার হাতে তুলে দেয়া হয়। ঢাকাস্থ সাংবাদিক সমন্বয়ে গঠিত “জেগে আছি” সংগঠনের পক্ষ থেকে কুষ্টিয়ার পাদুকা সেলাই কারিগর মুক্তিযোদ্ধা হত-দরিদ্র কাজী আব্দুল বারেককে এ আর্থিক সাহায্য দেওয়া হয়। উল্লেখ্য, মুক্তিযোদ্ধা দাবীদার আব্দুল বারেক স্বাধীনতার ৪৫ বছর পরও সরকারী গেজেটভুক্ত হতে পারেন নি।
গত ২৭ জানুয়ারী দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় ‘কুষ্টিয়ার মুক্তিযোদ্ধা বারেক ফুটপাতের পাদুকা সেলাই কারিগর’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রকাশিত ওই খবরটি ‘জেগে আছি’ নামকরণে সংগঠনের কর্মকর্তাদের দৃষ্টিতে আসে। পরবর্তীতে ওই সংগঠনের পক্ষ থেকে পাদুকা সেলাই কারিগর মুক্তিযোদ্ধা কাজী আব্দুল বারেক ও তার পরিবারবর্গের ঈদ উদযাপনের জন্য নগদ টাকা আর্থিক সাহায্য পাঠানো হয়। এ উপলক্ষ্যে কুষ্টিয়া প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আল্ মামুন সাগরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন- কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও রেফারী আম্পায়ার সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার ইকবাল মাহমুদ, বাংলাদেশ নিউজ টুডের কুষ্টিয়া প্রতিনিধি হামিদুর রহমান,ইত্তেফাকের জেলা প্রতিনিধি মোস্তাফিজুর রহমান মঞ্জু, সাপ্তাহিক কুষ্টিয়া বার্তা পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক হাজী খাদেমুল ইসলাম । অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় দৈনিক সময়ের কাগজের সম্পাদক ও প্রকাশক আবু বকর সিদ্দিক, দেশতথ্য পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক এনামুল হক, আজকের আলো পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক দেবাষীশ দত্ত, আলোকিত বাংলাদেশ পত্রিকার কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি এএইচএম আরিফ প্রমুখ। বক্তারা বলেন, সাংবাদিক সমন্বয়ে গঠিত “জেগে আছি” সংগঠনের পক্ষ থেকে ঈদ আনন্দ উপভোগের জন্য হত-দরিদ্র এই মুক্তিযোদ্ধা দেয়া আর্থিক সাহায্য একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। মুক্তিযোদ্ধা বারেক টাকা হাতে পেয়ে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন এবং তিনি শুকরিয়া আদায় করেন।
