গিলানিপুত্রকে শিকল দিয়ে বেঁধে রেখেছিল আল কায়দা

আপডেট : ২৮ জুন ২০১৬, ১৬:৪৯
তিন বছর আগে পাকিস্তানের মুলতান শহর থেকে আল-কায়দা জঙ্গিরা পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানির ছেলে আলী হায়দার গিলানিকে অপহরণ করেছিল। পাকিস্তানের সংসদে একটি প্রাদেশিক আসনের জন্য নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছিলেন তিনি। গত তিন বছর তিনি কেমন ছিলেন বন্দি অবস্থায়? কিভাবে তিনি ফিরে আসলেন? বিবিসির কাছে এক সাক্ষাত্কারে সেসব অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়েছেন তিনি ।
 
আল-কায়দা জঙ্গিরা আলী হায়দারকে জানিয়েছিল যে, তার বাবা ইউসুফ রাজা গিলানির উপর প্রতিশোধ নেয়ার জন্যই তাকে অপহরণ করা হয়েছে। কারণ ওসামা বিন লাদেনকে যখন হত্যা করা হয়, ইউসুফ রাজা গিলানি তখন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। অপহরণকারীরা মুক্তিপণের পাশাপাশি পাকিস্তানের কারাগারে আটক আল-কায়দার কয়েকজন বন্দীর মুক্তি দাবি করেছিল। অপহরণের পর আলী হায়দারকে উত্তর ওয়াজিরিস্তানে নিয়ে যাওয়া হয়। তাকে একটি ছোট্ট কক্ষে আটকে রাখা  হয়েছিল এবং এক বছর বাইরের কোন কিছু দেখতে দেয়া হয়নি। সূর্যের আলো কী জিনিস সেটি ভুলে গিয়েছিলেন তিনি। আল-কায়দা জঙ্গিরা আলী হায়দারকে শারীরিকভাবে কোন নির্যাতন না করলেও, তাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করেছিল। এক পর্যায়ে আল-কায়দা জঙ্গিরা তাকে তালেবানের কাছে হস্তান্তর করে।
 
উত্তর ওয়াজিরিস্তানে আল-কায়দা এবং তালেবান জঙ্গিদের লক্ষ্য করে পাকিস্তানী বাহিনী ২০১৪ সাল থেকে সামরিক অভিযান জোরাদার করে। এর পাশাপাশি চলছিল মার্কিন ড্রোন হামলা। আলী হায়দারকে যে জায়গায় আটকে রাখা হয়েছিল সেটি ছিল একটি যুদ্ধক্ষেত্র। তিনি বলেছেন, ‘ড্রোনের আওয়াজ ছিল ভয়ঙ্কর। মনে হতো যেন একটি বড় মৌমাছি মাথার উপর বিকট শব্দে উড়ে বেড়াচ্ছে। একটি নয় , একসাথে চার-পাঁচটি ড্রোন হামলা করতো।’ গোলার আঘাতে যে কোন সময় মারা যাবার ভয় করতেন আলী হায়দার। সেই এলাকায় ড্রোন হামলা জোরদার হলে আল-কায়দা জঙ্গিরা তাকে পাকিস্তানী তালেবানের হাতে হস্তান্তর করে।
 
পাকিস্তানি তালেবানের হাতে যাবার পর তার অবস্থার খানিকটা উন্নতি হয়। তারা তাকে শিকলে বেঁধে রাখতো না। তাকে হাঁটার সুযোগ দিত। খবর শোনার জন্য তালেবানরা তাকে একটি রেডিও দিয়েছিল। তাদের হাতে আফগানিস্তানে প্রায় দুই মাস বন্দি ছিলেন তিনি। মে মাসের নয় তারিখে তালেবানরা তাকে জানায়, জায়গাটি তাদের ছেড়ে দিতে হবে। কারণ তারা খবর পেয়েছে যে আমেরিকানরা সেখানে বিমান হামলা চালাবে।
 
আলী হায়দার বলেছেন, ‘আমরা রাতে সেই জায়গাটি ছেড়ে দিলাম এবং তিন-চার ঘণ্টা হাঁটার পর বোমা নিক্ষেপের শব্দ শুনতে পেলাম।’ হাঁটতে হাঁটতে এক পর্যায়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে সে। তিনি জানান, ‘তখন একজন এসে আমাকে বললেন আমার শার্টটি খুলতে। তারপর সেটি দিয়ে আমার হাত বাঁধে ফেললেন।’ আলী হায়দার নিজেকে পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানির ছেলে বলে পরিচয় দিলে তারা সেটি বিশ্বাস করতে চায়নি। কিন্তু পরে তারা বুঝতে পেরেছিলেন, তিনি সত্যি কথা বলছেন।
 
এরপর এক ব্যক্তি বললেন, ‘আপনি মুক্ত। আপনি এখন বাড়ি যাচ্ছেন।’ যে ব্যক্তিটি এ কথা বললেন তিনি ছিলেন আমেরিকান বাহিনীর একজন সদস্য। তালেবানকে লক্ষ্য করে তারাই হামলা চালিয়েছিল। এভাবেই তিন বছরের বন্দিদশা থেকে মুক্তি পান আলী হায়দার গিলানি।