ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে যুক্তরাজ্যের বের হয়ে যাওয়া (ব্রেক্সিট) বিশ্ব জুড়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে দীর্ঘমেয়াদে হুমকির মুখে ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। বুধবার কানাডার অটোয়া শহরে কানাডা ও মেক্সিকোর নেতাদের সঙ্গে এক সম্মেলনে ব্রেক্সিটের প্রভাব নিয়ে কথা বলেন তারা। নর্থ আমেরিকান দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক বন্ধন জোরদার করার উদ্দেশ্যে ওই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ব্রেক্সিট গ্রেট ব্রিটেন এবং ইউরোপ ছাড়াও পুরো বিশ্বে বিনিয়োগের সম্ভাবনাকে স্থবির করে দিতে পারে। এ সময় সংস্থাটি থেকে ব্রিটিশদের বেরিয়ে যাওয়ার কাজটি সুশৃঙ্খল প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন করার জন্য তিনি যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ও ইইউ নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান।
ওবামা বলেন, যুক্তরাজ্যের ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যাবার প্রভাবে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধিতে যে স্থবিরতা আসতে পারে তার প্রভাব হবে সুদূরপ্রসারী। গ্রেট ব্রিটেন ও ইউরোপে বিনিয়োগের সম্ভাবনা ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার প্রভাব গোটা বিশ্বের অর্থনীতিতেই পড়বে। ইতোমধ্যে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির হার দুর্বল হতে শুরু করেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এমতাবস্থায় করণীয় প্রসঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, এই মুহূর্তে সবাইকে ধৈর্য ধারণ করতে হবে। ইইউ থেকে ব্রিটেনের বেরিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া খুবই চ্যালেঞ্জিং। ঠান্ডা মাথায় এটি মোকাবিলা করতে হবে। এর আগে ব্রিটেনের বেরিয়ে যাওয়ার পর বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে এক বৈঠকে মিলিত হন ইইউভুক্ত ২৭টি দেশের নেতারা। যা ছিল ৪০ বছর পর প্রথম ইইউ’র এতগুলো দেশের নেতাদের বৈঠক। এতে দ্রুত সংস্থাটি থেকে ব্রিটেনকে বেরিয়ে যাওয়ার তাগিদ দেন তারা। একইসঙ্গে একক বাজারে প্রবেশাধিকার ধরে রাখতে দেশে সকল জনগণকে মুক্তভাবে চলাফেরা করতে দেওয়ার জন্য ব্রিটেনের প্রতি আহ্বানও জানানো হয়।
ওবামা বলেন, বিশ্ব জুড়ে দেশগুলোর কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং অর্থমন্ত্রীদের প্রস্তুতি দেখেই বোঝা যায়, ‘বিশ্ব অর্থনীতি অল্প সময়ের মধ্যেই স্থিতিশীল অবস্থায় চলে আসবে। আমার মনে হয় ব্রেক্সিট পুরোপুরি কার্যকর হলে তা বেশকিছু নেতিবাচক ঘটনার জন্য দায়ী থাকবে। খবর বিবিসি ও সিএনএনের।
