দুই মাস পরে কর্মস্থলে শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্ত

আপডেট : ১০ জুলাই ২০১৬, ২০:২১
ধর্মীয় অবমাননার নামে লাঞ্ছনার শিকার নারায়ণগঞ্জের পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্ত প্রায় দুই মাস পর কর্মস্থলে যোগ দিয়েছেন। রবিবার সকাল ৯টায় নারায়ণগঞ্জ নগরীর খানপুরের ভাড়া বাড়ি থেকে সদর মডেল থানা পুলিশের একটি দল কড়া নিরাপত্তায় তাকে স্কুলে নিয়ে যায় বলে জানা গেছে।
 
 
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মো. জাকারিয়া জানিয়েছেন, শ্যামল কান্তি ভক্ত তার ভাড়া বাড়িতে পুলিশ পাহারায় ছিলেন। অসুস্থতার কারণে দীর্ঘ ছুটি কাটিয়ে রোববার সকালে নিজ কর্মস্থলে যোগদান করেছেন। সেখানে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। আমরা তার নিরাপত্তার সকল রকম ব্যবস্থা করেছি।
 
যোগদানের পর শ্যামল কান্তি সাংবাদিকদের বলেন, দীর্ঘ দিন পর স্কুলে ফিরতে পেরেছি, এ জন্য আনন্দ লাগছে। স্বাভাবিক নিয়মে আমি কাজ করে যেতে আগ্রহী। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে যোগদান করেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, বিদ্যালয়ের স্বার্থে আগের মতোই তিনি তার দায়িত্ব পালন করবেন। তবে স্কুলের পরিবেশ নিয়ে শঙ্কিত।
 
শ্যামল কান্তির স্ত্রী সবিতা রাণী ভক্ত বলেন, সে (শ্যামল কান্তি ভক্ত) আগের মতো তার চাকরি ফিরে পেয়েছে, এতে আমি আনন্দিত। সরকার আমাদের নিরাপত্তা দিচ্ছে। তারপরও নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা তো কিছু আছেই। বিদ্যালয়ের ধর্মীয় শিক্ষক ও শিক্ষক প্রতিনিধি বোরহানুল ইসলাম শ্যামল কান্তি ভক্তকে সব ব্যাপারে সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন। বন্দর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নুরুল আমিন বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে প্রধান শিক্ষক তার কর্মস্থলে যোগদান করেছেন। বিদ্যালয়ের পরিবেশ স্বাভাবিক রয়েছে।
 
গত ১৩ মে নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার কল্যাণদীতে পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ে ধর্মের নামে কটূক্তির অভিযোগ এনে প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে শারীরিক নির্যাতন এবং স্থানীয় জাতীয় পার্টির (এ) সাংসদ সেলিম ওসমানের উপস্থিতিতে কান ধরে উঠবস করানো হয়। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ পেলে সারাদেশে ব্যাপক তোলপাড় হয়।
 
ঘটনার পরপরই শ্যামল কান্তি ভক্তকে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে সাত দিন চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। গত ৯ জুন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে পুলিশ প্রহরায় তাকে নগরীর নগর খানপুরের ভাড়া বাড়িতে নিয়ে আসা হয়।