সামরিক ক্যু শুরু হওয়ার পর থেকেই তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রেসিপ তাইয়েপ এরদোগান এর জন্য স্বেচ্ছা নির্বাসনে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা তুরস্কের ধর্মীও নেতা ফেতুল্লা গুলানকে দায়ী করে আসছে। কিন্তু গার্ডিয়ানে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে গুলান বলেন, তুরস্কের সরকার নিজেই এই সামরিক ক্যু এর নাটক সাজাতে পারে।
পেনসিলভানিয়ায় নিজের বাসভবনে অল্প কিছু সাংবাদিককে স্বল্প সময়ের জন্য এক সাক্ষাৎকার দেন গুলান। সেখানে তিনি তার বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, প্রেসিডেন্ট এরদোগান যে অভিযোগ এনেছে বিশ্ববাসী তা বিশ্বাস করবে বলে আমি মনে করিনা। তবে আমার ওপর এই দোষ চাপানোর জন্য সাজানো একটি সেনা ক্যু করাতে পারেন তিনি।
এ সময় তিনি জানান, কোন সামরিক অভ্যুত্থান ঘটাবার ইচ্ছা তার নেই। কেননা ১৯৯০ সালে হওয়া সামরিক অভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্ত ছিলেন গুলান নিজেই। তিনি বলেন, 'তখন আমাকে চাপের মধ্যে রাখা হয়েছিল এবং বলা যায় বন্দী ছিলাম আমি। এ সময় বিভিন্ন ধরণের অত্যাচার সহ্য করতে হয়েছে আমাকে।'
তিনি আরো যোগ করে বলেন, 'তুরস্ক এখন গণতন্ত্রের পথে রয়েছে এবং এই পথ ত্যাগ করা তাদের উচিত হবে না।'
এ সময় গার্ডিয়ানের একজন সাংবাদিক জানতে চান, সামরিক অভ্যুত্থান সফল হলে গুলান তুরস্কে ফেরত যেতেন কিনা? এর উত্তরে গুলান বলেন, নিশ্চয়ই আমি আমার দেশে ফেরত যেতাম, যদি তারা আমাকে স্বাধীনতা দিত। কে নিজের দেশে যেতে চায় না বলুন। তবে আমি এখানে আছি কারণ এখানে আমার স্বাধীনতা আছে।
উল্লেখ্য, ১৯৯৯ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পেনসিলভানিয়ায় বসবাস করছেন তুরস্কের এই ধর্মীও নেতা। এক সময় এরদোগানের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক থাকলেও ২০১৩ সালে হওয়া এক দুর্নীতি নিয়ে তাদের মধ্যে তিক্ত সম্পর্ক তৈরি হয়। দ্য গার্ডিয়ান।
