তুরস্কে গেল শুক্রবারের ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানের পরিকল্পনার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন দেশটির একজন সাবেক বিমান বাহিনী কমান্ডার। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলুর বরাতে বিবিসি বলছে, জেনারেল একিন ওজতুর্ক এবং ২৬ জন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়েছে এবং সোমবার তাদের রিমান্ডে পাঠিয়েছে একটি আদালত।
কিন্তু আইন কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো এক বিবৃতিতে জেনারেল ওজতুর্ক জোর দিয়ে বলেন, 'আমি সেই ব্যক্তি নই যে এই অভ্যুত্থানের পরিকল্পনা করেছে কিংবা নেতৃত্ব দিয়েছে।'
এর আগে আনাদোলু দাবি করেছিল, জিজ্ঞাসাবাদে তিনি বলেছেন, একটি অভ্যুত্থান ঘটানোর ব্যাপারে তিনি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই আচরণ করেছিলেন।
কর্মকর্তারা এই অভ্যুত্থানে অন্ততপক্ষে ২৩২ জন নিহত ও ১,৪০০ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন। পাশাপাশি সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে স্বেচ্ছানির্বাসিত তুর্কি ধর্মীয় নেতা ফেতুল্লাহ গুলানকে দায়ী করছেন দেশটির কর্মকর্তারা।
আনাদোলু আরো দাবি করেছিল, আঙ্কারার আদালতে হাজির করার আগে জিজ্ঞাসাবাদে জেনারেল ওজতুর্ক আইন কর্মকর্তাদের বলেছেন, "আমি জানি না কে এর (অভ্যুত্থান) পরিকল্পনা করেছেন বা পরিচালনা করেছেন। আমার অভিজ্ঞতা থেকে যতটুকু মনে হয়, 'গুলেনের আন্দোলন' এই অভ্যুত্থানচেষ্টার পেছনে রয়েছে।"
তিনি আরো জানিয়েছেন, 'কিন্তু আমি বলতে পারি না কে সশস্ত্র বাহিনীকে সংগঠিত করেছে এবং এটি বাস্তবায়নের পথে নিয়ে গেছে। আমার কাছে এ বিষয়ে কোনো তথ্য নেই।'
অন্যদিকে, তুরস্কের ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থান দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের সাজানো নাটক বলে রবিবার অভিযোগ করেছেন গুলেন। এরপর তিনি পৃথক এক সাক্ষাৎকারে বলেন, 'যদি অভ্যুত্থানে আমার জড়িত থাকার বিষয়টি প্রমাণ করতে পার তাহলে সেচ্ছায় আমি মৃত্যুমঞ্চে যাব।'
অবশ্য অভ্যুত্থান প্রচেষ্টার জন্য প্রেসিডেন্ট এরদোগান শুরু থেকেই তার এক সময়ের মিত্র কিন্তু হালে শত্রুতে পরিণত হওয়া যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী গুলেন ও তার নেতৃত্বাধীন হিজমেত আন্দোলনকে দায়ী করেন। ব্যর্থ অভ্যুত্থানের দায়ে গুলেনের বিচারের জন্য তাকে ফেরত পাঠাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানান।
গুলেনের জড়িত থাকার প্রমাণ দাখিল করতে পারলে গুলেনকে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনা করার আশ্বাস দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
এ প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যে সেইলবার্গের বাড়িতে এক সংবাদ সম্মেলনে গুলেন বলেন, 'সত্যিকার অর্থে প্রত্যাবর্তনের অনুরোধ নিয়ে আমি উদ্বিগ্ন নই।'
সেনা অভ্যুত্থান চেষ্টা ব্যর্থ করার পর এ ঘটনায় জড়িতদের নিঃশেষ করে দিতে ব্যাপক দমনাভিযান শুরু করেছেন প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান। দেশজুড়ে এ পর্যন্ত প্রায় ৬ হাজার জনকে আটক করেছে তুরস্কের নিরাপত্তা বাহিনী। আটককৃতদের মধ্যে রয়েছে, উচ্চপদস্থ সেনা সদস্যসহ ২ হাজার ৭০০ বিচারক।
অভ্যুত্থানে জড়িত সন্দেহে ৮ হাজার পুলিশ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। আঙ্কারা এবং ইস্তানবুলসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে এ পুলিশ কর্মকর্তাদেরকে পদচ্যুত করা হয়। যারা অভ্যুত্থানের চেষ্টা করেছে তাদেরকে 'ভাইরাস' আখ্যা দিয়ে মুছে ফেলার ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট।
দেশজুড়ে ১শ’রও বেশি জেনারেল এবং এডমিরাল আটক হয়েছে। সোমবার সকালে ইস্তানবুলের বিমান বাহিনীর একাডেমিতে তল্লাশি হয়েছে। ৩০ জন আঞ্চলিক গভর্নর এবং ৫০ জনের বেশি উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাও বরখাস্ত হয়েছে। এ ছাড়াও মোট ৮৭৭৭ জন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে চাকরীচ্যুত করা হয়েছে।
আরও মানুষ গ্রেপ্তার হতে পারে বলে জানিয়েছেন বিচারমন্ত্রী বেকির বোজদাগ। গ্রেফতারকৃতদের অধিকাংশই গুলেনের হিজমেত আন্দোলনের অনুসারী বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিবিসি ও গার্ডিয়ান।
