গুজরাটে দলিতদের লাঞ্ছিতের ঘটনায় মোদীর হতাশা

আপডেট : ২০ জুলাই ২০১৬, ১৯:২৬
ভারতের গুজরাটে হিন্দু কট্টরপন্থীদের হাতে নিম্নবর্ণের দলিত সম্প্রদায়ের কয়েকজন লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনায় হতাশা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বুধবার এক বিবৃতিতে এ কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং।
 
গত সপ্তাহে গোহত্যার অভিযোগে দলিতদের মধ্যে কয়েকজন লাঞ্ছনার শিকার হন। এ ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার সাতজন আত্মহত্যার চেষ্টা চালান। এ নিয়ে বিক্ষুব্ধরা ওইদিন বিভিন্ন স্থানে গাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে।
 
লোকসভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের ঘটনায় আমাদের অবশ্যই স্থায়ী সমাধানে যেতে হবে। যে কোনো রাজ্যে যে দলই ক্ষমতায় থাকুক না কেন এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটলে আমরা এর বিরুদ্ধে দাঁড়াব। কেননা একে পুঁজি করে অনেকেই এর ফায়দা লুটতে চাচ্ছেন। এদিকে কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী একে ‘সামাজিক সন্ত্রাস’ আখ্যা দিয়ে বলেছেন, এ সরকারের আমলেই এসব কিছু ঘটছে। যার দায় থেকে তারা মুক্ত হতে পারেন না।
সোনিয়াপুত্র কংগ্রেস সহ-সভাপতি রাহুল গান্ধী বৃহস্পতিবার গুজরাট সফরে যাবেন। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল যাচ্ছেন শুক্রবারে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একে দলিতদের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসীদের কাজ বলে এর প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
 
গত ১১ জুলাই চার যুবককে মৃত একটি গরুর চামড়া ছাড়ানোর কারণে তাদের বেধড়ক পেটান হয়। সড়কের মাঝখানে সকলের সামনে নির্দয়ভাবে পেটানর জন্য সেসময়ে অনেকে তীব্র সমালোচনা করে।
 
আস্তে আস্তে সাধারণ জনগণের ক্ষোভ বিক্ষোভে মোড় নেয়। তারা বিভিন্ন জায়গায় গাড়ি ভাঙচুর ও সড়ক অবরোধ করে। শুধু তাই নয়, এর প্রতিবাদে সাতজন ওইদিন বিক্ষোভকালে আত্মহননের চেষ্টা চালায়।
 
উল্লেখ্য, ভারতে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে গরু পবিত্র জিনিস। একারণে বিভিন্ন রাজ্যে এটি জবাই নিষিদ্ধ রয়েছে। গত বছর একজন মুসলিমকে উত্তেজিত জনতা পিটিয়ে হত্যা করে। অভিযোগ ছিল ওই ব্যক্তি তাদের বাসায় গরুর মাংস রেখেছিলেন এবং তারা তা খেয়েছিলেন। গোমাংস রাখার অভিযোগে এখন ওই পরিবারটিকে বিচারের মুখোমুখি করার পায়তারা করা হচ্ছে।-এনডিটিভি,বিবিসি