স্পেনে জিকা ভাইরাস সংক্রামিত এক নারী মাইক্রোসেফালি রোগে আক্রান্ত একটি শিশুর জন্ম দিয়েছে। একে ইউরোপের প্রথম মাইক্রোসেফালি আক্রান্ত শিশু জন্মদানের ঘটনা বলে মনে করা হচ্ছে। এর আগে স্লোভেনিয়াতে মাইক্রোসেফালি আক্রান্ত শিশু শনাক্ত হলে, তার মা-বাবা গর্ভপাতের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
গত মে মাসে ভ্রূণ অবস্থায় থাকতেই শিশুটির মাইক্রোসেফালিতে আক্রান্ত হওয়ার কথা জানা যায়। কিন্তু এরপরও তার মা-বাবা শিশুটিকে বাঁচিয়ে রাখার সিদ্ধান্ত নেন। ৪০ সপ্তাহ গর্ভাবস্থায় থাকার পর সিজারিয়ানের মাধ্যমে শিশুটি পৃথিবীর আলো দেখতে পায়। বার্সেলোনার ভল দ্য হেবরন হাসপাতালের নবজাতক বিভাগের প্রধান ফেলিক্স কাসটিলো বলেন, ওই শিশুর বিকাশের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় লক্ষণগুলো স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল ছিল।
স্পেনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, দেশটিতে এ পর্যন্ত ১৯০ জন জিকা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৮৯ জনই দেশের বাইরে ভ্রমণ করতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন। আর একজন যৌনমিলনের মাধ্যমে আক্রান্ত হয়েছেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মাইক্রোসেফালি আক্রান্ত নবজাতকের মাও বিদেশে গিয়েই জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন। তবে তিনি কোন দেশে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন সে ব্যাপারে জানানো হয়নি। এ বছরের শুরুতে ব্রাজিলসহ ল্যাটিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশে মাইক্রোসেফালির রোগের প্রকোপ বেশি দেখা যায়।
গর্ভাবস্থায় জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে মাইক্রোসেফালি তথা অপরিণত মস্তিষ্ক নিয়ে শিশু জন্ম নিতে পারে। এসব শিশুর বুদ্ধিমত্তার ঘাটতি থাকে, শারীরিক বৃদ্ধি কম হয়, এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।
১৯৪৭ সালে উগান্ডায় রেসাস ম্যাকাক প্রজাতির বানরের দেহে সর্বপ্রথম জিকা ভাইরাস পাওয়া যায়। পরবর্তীতে ১৯৫২ সালে উগান্ডা ও তানজানিয়াতে মানবদেহেও ভাইরাসটি শনাক্ত হয়। সাধারণত এডিস প্রজাতির মশা থেকে জিকা ভাইরাস মানুষের দেহে ছড়িয়ে থাকে। বিবিসি
