বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ক নিয়ে উস্কানিমুলক বক্তব্য না দেয়ার আহ্বান

আপডেট : ২৬ জুলাই ২০১৬, ১৯:৩২
বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ক নিয়ে বিভ্রান্তি ও উস্কানীমুলক বক্তব্য না দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশি রাষ্ট্রদুত রাবাব ফাতিমা। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও জাপানের সম্পর্ক ঐতিহাসিক। স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত যেকোন সময়ে জাপান বাংলাদেশের পাশে থেকে সহযোগীতা করেছে। ব্যাক্তিগত বা কোন নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর স্বার্থ উদ্ধারে এই সম্পর্ককে কোনভাবেই যেন খাটো না করা হয়।
 
গত রবিবার টোকিও'র আকাবানের বিভিও হলে অনাবাসিক বাংলাদেশিদের সংগঠন 'এন আর বি' আয়োজিত এক শোকসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
 
রাবাব ফাতিমা বলেন, জাপানিদের ভালবাসা ও উদারতা আমাকে মুগ্ধ করেছে। বাংলাদেশে নিহত সাত জনেরই শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে আমি ছিলাম কিন্তু সেসব পরিবারের কারো চোখে আমি রাগ দেখিনি, লজ্জায় আমার মাথা নত হয়ে গেছে।
 
এ সময় ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে জাপানিদের সহযোগিতার কথা স্মরণ করে রাষ্ট্রদুত বলেন, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন জাপানের শিশুরা তাদের টিফিনের পয়সা বাঁচিয়ে বাংলাদেশিদের সাহায্য করেছিল ; আজ আমরা কিনা সেই মানুষগুলোকে হত্যা করেছি!
 
অনুষ্ঠানে এনএইচকে বাংলা বিভাগের প্রযোজক কাজুহিরো ওয়াতানাবে তার বক্তব্যে বলেন, গত ৪০ বছর ধরে আমি এনএইকে'র বাংলা বিভাগের সঙ্গে জড়িত। এরকম ঘটনা বাংলাদশে কখনো ঘটতে পারে তা আমার জন্য কল্পনার বাইরে ছিল।
 
এ ঘটনায় তিনি খুবই মর্মাহত হয়েছেন বলেও তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন ওয়াতানাবে।
 
অনুষ্ঠানের শুরুতে সমবেত অতিথিরা পাঁচটি দেশের নিহত ২০ জনের নামের স্থৃতিফলকের সামনে এক এক করে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। এরপর সবাই দাঁড়িয়ে নিহতদের স্থৃতির উদ্দেশ্যে এক মিনিট নিরবতা পালন করেন। এ সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত অনেক জাপানিকে কাঁদতে দেখা যায়।
 
শোকসভায় আজিয়া ব্র্যান্ডের ইশিজাকি মিয়াকো বলেন, এ ঘটনা অত্যন্ত মর্মান্তিক। যা আমাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টদায়ক। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠ তদন্তের জন্য বাংলাদেশকে অনুরোধ করেন।
 
তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষের একটা গর্বিত ইতিহাস রয়েছে। এ ঘটনার মধ্যদিয়ে আজ গোটা বাংলাদেশের মানুষ লজ্জিত হয়ে পড়ছে।
ইশিজাকি মিয়াকো বলেন, যেসব বাংলাদেশির সঙ্গে আমার পরিচয় রয়েছে তারা সবাই এ ঘটনার জন্য ক্ষমাপ্রার্থী। তারা এ ঘটনা স্মরন করে আজো কাঁদেন।
 
এনআরবি'র পক্ষে অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন শহীদুর রহমান খান হিরো। শোকসভায় আরো বক্তব্য রাখেন, এনআরবি'র সাধারন সম্পাদক মীর মহসিন, কামরুল হাসান জুয়েল, মনির হোসেন, কাজুহিরো ওয়াতানাবে, মারুবেনি প্রধান ইনাদোমে হিদেকি, জেড এম আবুসিনা, অভিনেতা কোদা তাৎসুইয়া, নাবি উল্লাহ আসিফ, কাজী মাহফুজুল হক লাল, বাংলাদেশে কাজ করা এনজিও শাপলা নীড় চেয়ারম্যান ইউকিও ইওয়াকি, বাদল চাকলাদার, সালেহ মো. আরিফ, এমদাদুল হক, খন্দকার আসলাম হীরা, শেখ এমদাদ, মিজানুর রহমান, হারুনুর রশিদ, কাজী ইনসানুল হক, জাকির হোসেন জোয়ার্দার, খন্দকার নাজিমুর রহমান, মুন্সী কে আজাদ প্রমুখ।
 
একই দিনে এ ঘটনায় আরো একটি শোকসভার আয়োজন করে জাপান যুবলীগ।
 
উল্লেখ্য ১লা জুলাই সন্ত্রাসীদের পৈশাচিক হামলায় নিহতদের ঘটনার পর বিভিন্ন সময়ে শোকসভার আয়োজন করে জাপানে বাংলাদেশি প্রবাসীরা। এরই অংশ হিসেবে গত রবিবার টোকিও'র ইকেবুকুরোতে অবস্থিত বাংলাদেশের একমাত্র শহীদ মিনারের সামনে মোমবাতি প্রজ্জলিত করে নিহতদের আত্নার মাগফেরাত কামনা করা হয়।  এছাড়াও বাংলাদেশি কমিউনিটি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ভিন্ন ভিন্ন সময়ে শোকসভার আয়োজন করে।