স্বাধীন কোম্পানি হিসেবে ইয়াহুর অস্তিত্ব আর থাকছে না। মার্কিন টেলিকম কোম্পানি ভেরিজোন ৪.৮৩ বিলিয়ন ডলারে ইয়াহুকে কিনে নিয়েছে।
কিন্তু কেন ইয়াহুর এমন হাল? কেন শেষমেশ একটা গোটা প্রতিষ্ঠানকে বিক্রি করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হল?
এই সিদ্ধান্তের পিছনে যে যে কারণগুলো উঠে আসছে, সেগুলি হল-
১) ২০০৮ সালে ব্যবসায় শীর্ষে ওঠে ইয়াহু। কিন্তু ধীরে ধীরে তার পতন শুরু হয়। পরিকাঠামোগত পরিবর্তন ও অন্যান্য পরিবর্তন এনেও ফেসবুক ও গুগলের জনপ্রিয়তার সঙ্গে পেরে ওঠেনি প্রতিষ্ঠানটি। সার্চ ইঞ্জিন হোক কিংবা মেল-এর দিক থেকে অনেক এগিয়ে যায় গুগল।
২) বেশ কিছু সিদ্ধান্ত ইয়াহুর পক্ষে বিপজ্জনক হয়ে দাঁড়ায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় টেক্কা দিতে গিয়ে তাম্বলার নামে এক সোশ্যাল ব্লগিং সার্ভিস কিনে ইয়াহু। কিন্তু ফেসবুকের জনপ্রিয়তার ধারেকাছে তো পৌঁছায়নি সেটিও, আদতে এ সাইটকে ফ্লপ বললে অত্যুক্তি করা হয় না। এই লোকসানও কোম্পানির পক্ষে যথেষ্ট ক্ষতিকর হয়।
৩) সময়ের সঙ্গে গুগল ও ফেসবুক যেভাবে নিজেদের পরিবর্তন করেছে, সেইভাবে বিবর্তিত হতে পারেনি ইয়াহু। ফলে জনপ্রিয়তা হারিয়েছে ব্যবহারকারীদের মধ্যে।
৪) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সব থেকে বেশি বেতনের মহিলা সিইও মারিসা মায়ার কাজ করেন এই প্রতিষ্ঠানে। সবরকম প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি কাজ চালিয়ে গিয়েছেন। এখন যদিও প্রশ্ন উঠছে তার দক্ষতা নিয়ে। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ইয়াহু যেভাবে পিছিয়ে পড়েছিল, সেই ডুবন্ত তরীকে আর তুলে আনতে পারেননি তিনি।
কী লাভ হবে ভেরিজোনের? এই মুহূর্তে ভেরিজোনের ইউনিক ব্যবহারকারী প্রতি মাসে প্রায় ১৫০ মিলিয়ন। ইয়াহুর থেকে আরও ২০০ মিলিয়ন ব্যবহারকারী পেতে চলেছে প্রতিষ্ঠানটি। ফলে ভেরিজোনের ব্যবসা যে কয়েক গুণ বাড়ল তা বলাই বাহুল্য।
