ফ্রান্সের নরম্যান্ডিতে মঙ্গলবার গির্জার ভিতরে যাজক হত্যার সঙ্গে জড়িত দুই ব্যক্তির মধ্যে একজনের পরিচয় জানা গেছে। ফ্রান্সের সরকারি কৌঁসুলি ফ্রাঁসোয়া মলিন্স জানান, হামলাকারীদের একজন ১৯ বছর বয়সী আদেল কারমিচি। গতবছর সিরিয়ায় যাওয়ার চেষ্টা করার সময় দু’বার তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।
এদিকে ওই ঘটনার পর ফরাসি প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওঁলাদ খ্রিস্টান, মুসলিম, ইহুদি এবং বৌদ্ধধর্মের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
তবে আরেক হামলাকারীর পরিচয় এখনো জানা যায়নি। মঙ্গলবার হামলার খবর পেয়েই গির্জাটিকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে পুলিশ। মলিন্স জানান, হামলাকারীরা ধর্মযাজককে হত্যার পর বাকি চার জিম্মির একজনকে আহত করে। অন্য তিন জিম্মিকে গির্জায় পুলিশের প্রবেশ ঠেকাতে মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এরপর শুরু হয় বন্দুকযুদ্ধ। ফরাসি নিরাপত্তাবাহিনী দুই হামলাকারীকেই গুলি করে হত্যা করে। তিন জিম্মিকেও উদ্ধার করা হয়। পরে বোমা ও বিস্ফোরকের সন্ধানে গোটা এলাকায় চিরুনি-তল্লাশি চালায় বিশেষ বাহিনীর সদস্যরা।
প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওঁলাদের ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর বুধবার প্রতিনিধিদের ওঁলাদের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা কাউন্সিলের সঙ্গে বসার কথা ছিল। এরপর ফরাসী মন্ত্রিসভারও বৈঠক হবে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছিল। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ওঁলাদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জাতীয় ঐক্যের আহবান জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, ধর্মযাজক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কয়েক ঘণ্টার মধ্যে জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এর দায় স্বীকার করে। আইএসের কথিত বার্তা সংস্থা আমাক-এ বলা হয়, ‘নরম্যান্ডিতে গির্জায় হামলাকারীরা আইএসের সৈনিক। ক্রুসেডার জোটভুক্ত দেশগুলোকে টার্গেটের অংশ হিসেবে এ হামলা চালানো হয়েছে।’ -বিবিসি
