সিরাজগঞ্জে যমুনার পানি কিছুটা কমলেও জেলার বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। এখনো জেলার পাঁচটি উপজেলার ৩৩টি ইউনিয়ন শতাধিক গ্রাম বন্যা কবলিত রয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনার পানি চার সেন্টিমিটার কমে রবিবার দুপুরে সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে বিপদসীমার ৮৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যমুনার পানি কমলেও অভ্যন্তরীন নদীগুলোর পানি বাড়ছে। করতোয়া, বড়াল, হুরাসাগর, ধলাই, চাকলাই নদীর পানি বৃদ্ধি পাবার কারণে এখনো নদী এলাকার গ্রামগুলো বন্যায় ডুবে রয়েছে।
সিরাজগঞ্জের পাঁচ উপজেলার চরাঞ্চলের ৩৩টি ইউনিয়নের শতাধিক গ্রামের মানুষ কয়েকদিন ধরে বন্যা কবলিত হবার কারণে এই অঞ্চলের মানুষ এখন কষ্টে জীবন যাপন করছে। পর্যাপ্ত ত্রাণ না পেয়ে বন্যা কবলিতরা অর্ধাহারে অনাহারে দিন কটাচ্ছে।
এদিকে শাহজাদপুর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নে যমুনার পানি প্রবেশ করায় অর্ধলক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। তাঁত সমৃদ্ধ এলাকা হিসেবে পরিচিত শাহজাদপুর, বেলকুচি ও এনায়েতপুরের হাজার হাজার তাঁত কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাঁতী ও শ্রমিকদের মানবেতর দিন যাপন করতে হচ্ছে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা ওয়ালি উদ্দিন জানান, সিরাজগঞ্জ সদর, কাজিপুর, বেলকুচি, শাহজাদপুর ও চৌহালী উপজেলায় ৩৩টি ইউনিয়নের প্রায় শতাধিক গ্রামের কমপক্ষে সাড়ে ১৫ হাজার পরিবারের লক্ষাধিক মানুষ বন্যা কবলিত হয়েছে। এ পর্যন্ত জেলার পাঁচটি উপজেলার বন্যা কবলিতদের মাঝে চারশো মেট্রিক টন চাল ও ১৩ লক্ষ টাকা বিতরণ করা হয়েছে।
