রাজশাহীতে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত নজরুল ইসলাম ওরফে বাইক হাসান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক রেজাউল করিম সিদ্দিকী ও পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে সন্ত গৌড়ীয় মঠের অধ্যক্ষ যজ্ঞেশ্বর রায় (৫০) হত্যা মামলার আসামি।
নজরুলের বাড়ি পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলার সোনাহার ইউনিয়নের সোনাহার গজপুরী গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের আব্দুল্লাহ মিয়ার ছেলে।
অধ্যাপক রেজাউল হত্যাকাণ্ডে জড়িত অপর আসামি মাসকাওয়াত হাসান সাকিব ওরফে আব্দুল্লাহ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে অধ্যাপক রেজাউল হত্যাকাণ্ডে নজরুলের সম্পৃক্ততা থাকার কথা জানান।
দেবীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ সুকুমার মহন্ত জানান, দেবীগঞ্জের সন্ত গৌড়ীয় মঠের অধ্যক্ষ যজ্ঞেশ্বর রায় (৫০) হত্যাকাণ্ডে নজরুলকে অস্ত্রবহনকারী, পরিকল্পনাকারী, হত্যাকারী ও বাইকচালক হিসেবে উল্লেখ করা হয়। ঘটনার দিন সকালে নজরুল, রাজিবুল ইসলাম মোল্লা ওরফে বাদল ও শফিউল ইসলাম ওরফে ডন মোটরসাইকেলে করে মঠে আসেন। নজরুল মোটরসাইকেলে বসে থাকেন। বাদল ও শফিউল মোটরসাইকেল থেকে নেমে মঠের ভিতরে যান। বাদল যজ্ঞেশ্বর রায়কে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেন। নজরুল ও শফিউল পিস্তল দিয়ে গুলি করে। ককটেল ফাটিয়ে মোটরসাইকেলে করে আবার তারা চলে যান।
রাজশাহীর কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানান, মহানগরীর আশরাফের মোড়ে গত মঙ্গলবার ভোরে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত জেএমবি সদস্য নজরুল ওরফে হাসান ওরফে বাইক হাসান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. এএফএম রেজাউল করিম সিদ্দিকী হত্যাকাণ্ডে জড়িত। নজরুলসহ অধ্যাপক রেজাউল হত্যার অপর আসামি শরিফুলকে ধরিয়ে দিতে গত শুক্রবার এক লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। নজরুলের কাজ হলো, জেএমবির বিভিন্ন কিলিং মিশনে অংশ নিয়ে ঘাতকদের মোটরসাইকেলে আনা নেয়া করা। এভাবে তিনি ১১টি হত্যাকাণ্ডে অংশ নিয়েছিলেন। এ জন্যই তিনি জেএমবি ক্যাডারদের কাছে বাইক হাসান নামে পরিচিতি পেয়েছে।
গত ২৩ এপ্রিল সকালে রাজশাহী মহনগরীর শালবাগান এলাকায় নিজ বাসার সামনে থেকে মাত্র ১০০ গজ দূরে রাবির অধ্যাপক ড. এএফএম রেজাউল করিম সিদ্দিকীকে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।
