উখিয়ায় ধর্মীয় স্থাপনার আড়ালে নানা কার্যক্রম নিয়ে জনমনে প্রশ্ন

আপডেট : ০৪ আগস্ট ২০১৬, ০১:০৭
রোহিঙ্গা অধ্যুষিত জনপদ কক্সবাজারের উখিয়ার প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে অজ্ঞাত পরিচয়ে একাধিক ইসলামিক নামধারী সংস্থা বা ব্যক্তির অর্থায়নে অসংখ্য মসজিদ, ফোরকানিয়া মাদ্রাসা, এতিমখানাসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করে সহজ সরল মানুষকে বিপদগামী করা হচ্ছে। অজ্ঞাত পরিচয়ে এসব ইসলামি নামধারী দাতা সংস্থা ও ব্যক্তির নামে উখিয়ার প্রত্যন্ত এলাকায় জঙ্গি বীজ বপন করারও অভিযোগ উঠেছে।  এসব প্রতিষ্ঠান নির্মাণে অর্থ যোগানদাতার উত্স ও উদ্দেশ্য বরাবরই গোপন থেকে যাওয়ার ঘটনা নিয়ে জনমনে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।
 
বঙ্গোপসাগর তীরবর্তী জালিয়াপালং ইউনিয়নের পাহাড়ের পাদদেশ চোয়াংখালী পল্লী। এখানে প্রায় ২২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে আধুনিক স্থাপত্য শৈলির পাকা মসজিদ। মিয়ানমার সীমান্ত নাফনদী সংলগ্ন পালংখালী ইউনিয়নের রাহমতের বিল গ্রাম। এখানেও একই ডিজাইনের পাকা মসজিদ, ল্যাট্রিন ও পানির পাম্প বিতরণ করা হয়েছে। এ স্থান থেকে মিয়ানমারের দূরত্ব প্রায় কোয়ার্টার কিলোমিটার। একই ইউনিয়নের পাহাড়ীয় জঙ্গলাকীর্ণ কোনাপাড়া গ্রাম। এখানেও একই ধরনের স্থাপনা রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন অনগ্রসর এলাকায় প্রায় অর্ধশতাধিক পাকা মসজিদ নির্মাণ করে দিয়েছে কথিত ইসলামি নামধারী একাধিক সংস্থা। মসজিদ নির্মাণের পাশাপাশি অনগ্রসর এলাকার দরিদ্র লোকজনের মাঝে স্যালো টিউবওয়েল, ল্যাট্রিন, মসজিদ সংলগ্ন ফোরকানিয়া মাদ্রাসা, এতিমখানায় পানির পাম্প স্থাপনসহ নগদ টাকা, চাল, ডাল, তেল, রমজানে ইফতার সামগ্রী, কোরবানির গরুর মাংস বিতরণ ইত্যাদির কাজ হচ্ছে কতিপয় ব্যক্তি বা সংস্থার অর্থে।
 
অনুসন্ধানকালে জানা গেছে, ইতোমধ্যে নির্মিত অর্ধশতাধিক পাকা ও সেমিপাকা মসজিদের অধিকাংশ ইমাম মোয়াজ্জিন ও তত্সংলগ্ন ফোরকানিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক মিয়ানমারের অবৈধ অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গা নাগরিক। এসব ফোরকানিয়া মাদ্রাসায় কোমলমতি শিশুদের প্রচলিত আরবি ও বাংলা ভাষার স্থলে উর্দুতে পড়ানো হয় এবং শুক্রবার জুমার নামাজে উর্দু ও বাংলা মিশ্রিত খুতবা দেওয়া হয় বলে সূত্র জানিয়েছে।
 
এদিকে গত ৩০ জুলাই শনিবার টেকনাফের সমুদ্র উপকূলবর্তী শামলাপুর থেকে দেশি-বিদেশি জঙ্গিদের গোপন বৈঠক চলাকালে ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে টেকনাফ বিজিবি অভিযান চালিয়ে আরএসও শীর্ষ নেতা ও জঙ্গি অর্থায়নকারী হাফেজ ছালাহুল ইসলাম, সৌদি নাগরিক আবু ছালে আল আহমেদ গাম্মী, টেকনাফের শামলাপুর গ্রামের হাফেজ ছৈয়দ করিম, টাঙ্গাইল জেলার বাসাইলের হাবাবীল পাড়ার মৌলানা মোহাম্মদ ইব্রাহিমকে আটক করে। এদের আটকের খবরে স্থানীয়ভাবে জঙ্গি অর্থায়নে বিভিন্ন মসজিদ মাদ্রাসা, নলকূপ, পানির পাম্প ও ল্যাট্রিন নির্মাণকারী ও সহযোগীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে বলে জানা গেছে।
 
এ ব্যাপারে উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ হাবিবুর রহমান স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান, রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকা হিসাবে তারা জঙ্গি ও সন্ত্রাসী তত্পরতার বিরুদ্ধে অগ্রাধিকারভিত্তিতে দিন-রাত কাজ করছেন। যাতে এখানে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে না পারে।