সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া 'পোকেমন গো' নিয়ে এখন উন্মাদনা চলছে বিশ্বজুড়ে। তবে এই উন্মাদনায় শামিল হতে পারবে না ইরানের গেমপ্রেমীরা। কারণ, দেশটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে এই অগমেন্টেড রিয়ালিটি গেম।
রবিবার ইরানে পোকেমন গো অ্যাপ নিষিদ্ধের ঘোষণা দিয়েছে দেশটির 'হাই কাউন্সিল অফ ভার্চুয়াল স্পেস'। এর আগে বিশেষ বাহিনী বা দল গেমটি নিষিদ্ধ করে। তবে এবারই প্রথম কোনো দেশ গেমটি নিষিদ্ধের ঘোষণা দিলো।
পোকেমন গো অ্যাপ নিষিদ্ধের কারণ নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলেনি হাই কাউন্সিল অফ ভার্চুয়াল স্পেস। বিবিসি'র খবর মতে, 'নিরাপত্তা ঝুঁকি'কে কারণ দেখিয়ে অ্যাপটি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে অ্যাপটি কোন ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে, এ নিয়ে কিছু জানায়নি হাই কাউন্সিল অফ ভার্চুয়াল স্পেস।
পোকেমন গো এর বিশেষত্ব হল, এতে ভার্চুয়াল আর বাস্তব জগতের মধ্যে সমন্বয় আনা হয়েছে। কেবল ঘরে বসে খেলার মতো নয়, খেলোয়াড়কে বাইরে আনাই এই গেমের মূল লক্ষ্য। একটি স্মার্টফোনে গেমটি খেলার সময়ে 'পোকেমন গো' খেলোয়াড় থেকে পোকেমন বা প্রতিদ্বন্দ্বী দল কত দূরে রয়েছে তার ক্রমাগত নোটিফিকেশন দিয়ে যেতে থাকে। খেলোয়াড়রা চাইলে অপশনে গিয়ে তাদের আশপাশের পরিবেশ স্ক্যান করে দেখতে পারেন, কোথাও পোকেমন রয়েছে কিনা। ভাগ্য সুপ্রসন্ন হলে হয়ত মোবাইলের পর্দায় পোকেমনের দেখা পেয়েও যেতে পারেন হঠাৎ। আর চাইলে 'পোকেমন বল' ছুঁড়ে পোকেমনকে বন্দি করে গেমার তা যোগ করে ফেলতে পারেন নিজস্ব সংগ্রহের তালিকায়।
নিনটেনডো-এর এই গেম এ মাসের শুরুতে মুক্তি পাওয়ার পর থেকেই ব্যাপক সাফল্যের মুখ দেখে আসছে। তবে জনপ্রিয়তার পাশাপাশি নানা বিড়ম্বনাও পিছু ছাড়ছে না গেমটির। পোকেমন প্লেয়ারেরা প্রায়ই বাস্তবক্ষেত্রে অমনোযোগিতার কারণে সড়ক দুর্ঘটনাসহ ভুলে দেশের সীমানা পাড়ি দেওয়ার মতো সব ঘটনার জন্ম দিয়ে আসছেন।
সপ্তাহ খানেক আগে পোকেমন গো নিষিদ্ধ করে ইসরাইল সেনাবাহিনী। পোকেমন গো স্মার্টফোনের ক্যামেরা ও লোকেশন সেবা সক্রিয় করে তোলে। এতে সেনা ক্যাম্পের অবস্থান ও এর আশপাশের ফটোগ্রাফের মতো সংবেদনশীল তথ্য ফাঁস হয়ে যেতে পারে। আর সে জন্য পোকেমন গো নিষিদ্ধ করে ইসরাইল সেনাবাহিনী।
এর আগে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কোচের দায়িত্ব নেয়া জোসে মরিনহো তার খেলোয়াড়দের জন্য দিন কয়েকের জন্য গেমটি খেলা নিষিদ্ধ করেন।
