মনপুরায় চরম দুর্ভোগে পানিবন্দি অর্ধলক্ষাধিক মানুষ

আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০১৬, ১৬:০২
ভোলার দ্বীপ উপজেলা মনপুরার মূল ভুখন্ডের ১নং মনপুরা ইউনিয়নের চৌমহনী বাজার সংলগ্ন পশ্চিম পাশের  ও বেতুয়া বেড়ীবাধ ভেঙ্গে আমবশ্যার জোয়ারের পানি ঢুকে ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।
 
প্রায় সহস্রাধিক পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। গত ৪ দিন ভাঙ্গা বেড়ীবাধঁ দিয়ে হুহু করে জোয়ারের পানি ঢুকে ইউনিয়নের পশ্চিম কুলাগাজী তালুক, কাউয়ারটেক চৌমুহনী গ্রামের ৭নং ওয়ার্ড, পুর্বকুলাগাজির তালুক, সিতাকুন্ড, ঈশ্বরগঞ্জ, হাজির হাট ইউনিয়নের পুর্ব সোনারচর, চরযতিন, চরজ্ঞান, চরমরিয়ম, দাসেরহাট গ্রাম তলিয়ে গেছে।
 
এছাড়া মূল ভুখন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন কলাতলীচর, ঢালচর, চরনিজাম, চরশামসুউদ্দিন চরের চারপাশে কোন বেড়ীবাধঁ না থাকায় আমবশ্যার জোয়ারে অস্বভাবিক জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় এসব চরাঞ্চলে প্লাবিত হয়ে পানি ওঠা নামা করে। এসব প্লাবিত এলাকার মানুষের বিশুদ্ধ পানি ও খাবার সংকট দেখা দিয়েছে।
IMG0
সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, এসব প্লাবিত এলাকার মানষের বসত ভিটা পানির নিচে ডুবে আছে। উঠানে ময়লা আবর্জনা পানি জমে রয়েছে। বসত ভিটা ডুবে থাকার কারনে রান্না বান্না করতে পারছেনা। মহিলারা ঘরে বসে জোয়ারের পানিতে পাতিল পরিস্কার করছেন। ঘর থেকে কোথাও বের হতে পারছেন না।
 
চারিদিকে জোয়ারের পানি রাস্তার উপর দিয়ে যাচ্ছে। সাধারণ মানুষ খুব আতংকে আছেন। গো খাদ্যের ও তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। গবাধি পশুগুলো উঠানের উচু জায়গায় রাখা হয়েছে। ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা স্কুলে যেতে পারছেনা। রাস্তার উপর কেউ কেউ জাল দিয়ে মাছ ধরছেন। রান্না করতে না পারায় অনেকে দুই-তিন বেলা উপোস থাকতে হয়েছে।
 
সাধারণ মানুষের অভিযোগ পানি উন্নয়ন বোর্ডের অবহেলায় এসব ভাঙ্গা বেড়ীবাধ নির্মাণ না করায় সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়ছেন। আবার যেসব নতুন বেড়ীবাধ করা হয়েছিল তাও পানিউন্নয়ন বোর্ড সঠিকভাবে তদারকি না করার কারণে এবং ঠিকাদারের সাথে পানিউন্নয়ন বোর্ডের কর্তৃপক্ষের যোগসাজসে  যেভাবে বেড়ীবাধঁ করার কথা ছিল সেভাবে করা হয়নি।
IMG1
পানিবন্দি হাজির হাট ইউনিয়নের ১নং পূর্ব সোনার চরের মনুরা খাতুন বলেন,জোয়ারের পানিতে ঘর ডুবে যাওয়ায় বাচ্চাদের জন্য রাতের খাবার রান্না করতে পারিনি। সারারাত আমার বাচ্চারা উয়াস ছিল। আমরা ঘরের মধ্যে চৌকির উপর সারারাত বসে ছিলাম। সকালবেলা টিনের জের দিয়ে চুলা তৈরি করে রান্না করেছি। আমরা খুব কষ্টের মধ্যে আছি।
 
মনপুরা ইউনিয়নের পুর্ব ঈশ্বরগঞ্জ গ্রামের ৯৫ বছরের ললিত চন্দ্র দাস বলেন, স্যারগো আমাদের ঘরবাড়ি সব ডুবে গেছে। পুকুরের সব মাছ চলে গেছে। রাতে ঘুমাতে পারিনা। আশেপাশের সকল বাড়ীর পুকুর ডুবে গেছে এখন মহিলারা জোয়ারের পানি দিয়ে রান্না করেন।
 
প্লাবিত এসব এলাকায় বিশুদ্ধ পানির খুব সংকট দেখা দিয়েছে। এসব এলাকার মানুষ প্রচন্ড কষ্টের মধ্যে দিনাতিপাত করছেন। বর্তমানে তাদের কষ্টের যেন শেষ নেই।
 
এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারি প্রকৌশলী আবুল কালাম বলেন, জোয়ারের তীব্রতায় বেড়ীবাধ ভেঙে ভিতরে পানি ঢুকছে। আমরা বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। আশা করি দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে।
 
এ ব্যাপারে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মিসেস শেলিনা আকতার চৌধুরী বলেন, জোয়ারের প্রবল চাপে বেড়ীবাধঁ ভেঙে ভিতরে পানি ঢুকে কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। আমি বিষয়টি পরিবেশ ও বন উপমন্ত্রী আবদুল্যাহ আল ইসলাম জ্যাকবকে জানিয়েছি। তিনি এব্যাপারে দ্রুত উদ্যোগ নিবেন বলে আমাকে জানিয়েছেন। আশা করি সমস্যা সমাধান হবে।
 
দৈনিক ইত্তেফাক/ এমএইচ