বিভিন্ন অজুহাতে ১০মাস যাবত্ ভাতা বন্ধ থাকায় ভিক্ষা করে সংসার চালাতে হচ্ছে শিবগঞ্জ পৌরসভার দৌলতপুর হাজিপাড়া গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা বেলাল উদ্দিনকে।
বেলাল উদ্দিন জানান, গত ১০ মাস যাবত্ তার মতো ২৯জন মুক্তিযোদ্ধার ভাতা বন্ধ আছে। তবে বাকিরা কোনোরকমে সংসার চালাতে সক্ষম হলেও আমি ভিক্ষার ঝুলি হাতে নিতে বাধ্য হয়েছি। তিনি জানান, ১৯৭১ সালে ২৭বছর বয়সে মুক্তিযুদ্ধে যোগদান করে প্রথমে মালদহ ও পরে ৭নং সেক্টর তরঙ্গপুর, কালিয়াচকে প্রশিক্ষণ নিয়ে শিবগঞ্জ উপজেলার ধোবড়া ও আড়গাড়াহাটসহ বিভিন্ন এলাকায় লড়াই করে দেশকে শত্রুমুক্ত করেছিলাম। যুদ্ধ শেষে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি হিসেবে সনদপত্রসহ মাসিক ভাতা দেয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন যাবত্ মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পেয়ে আসলেও ১০মাস আগে আমাকে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা বলে বন্ধ করে দেয় সমাজ সেবা অফিস। তাছাড়া সমাজসেবা অফিসের কর্মচারী বুলবুল আমার কাগজপত্র কেড়ে নিয়েছে। তবে বুলবুল এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বজলার রশিদ সনু বলেন, সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী মুক্তিবার্তা ও ভারতীয় তালিকায় নাম থাকতে হবে। ১৯৭১ সালের নভেম্বর মাসে সরকারের নীতিমালায় বয়স এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বাক্ষরিত সনদ থাকতে হবে। এ ডকুমেন্টস না থাকলে মুক্তিযোদ্ধার তালিকা থেকে নাম বাতিল হয়ে যাবে। অন্যদিকে শিবগঞ্জ উপজেলা সমাজ সেবা অফিসার কাঞ্চন কুমার জানান, সরকারি পরিপত্র আনুযায়ী শিবগঞ্জে শুধু বেলাল নয়, ২৯জনের ভাতা বন্ধ আছে। উপজেলা যাচাই বাছাই কমিটি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপসচিবের কাছে ওই ২৯জন মুক্তিযোদ্ধার ভাতা চালুর জন্য সুপারিশমালা পাঠিয়েছে। আশা করি খুব শীঘ্রই তাদের ভাতা ছাড় পাবে।
ইত্তেফাক/ এ এন
