কুমিল্লায় শিক্ষককে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ

আপডেট : ১০ আগস্ট ২০১৬, ০০:৪৫
কুমিল্লার প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইন্সটিটিউট (পিটিআই) এর সুপারিনটেনডেন্ট রাইহুল করিমের বিরুদ্ধে এক প্রশিক্ষণার্থী শিক্ষককে তুলে নিয়ে রাতভর যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার শিক্ষক-প্রশিক্ষণার্থী ও এলাকাবাসী বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে জেলা প্রশাসকের নিকট স্মারকলিপি প্রদান করেন। পরে আন্দোলনের মুখে বিকালে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ওই কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তরে সংযুক্ত করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা প্রশাসক মোঃ হাসানুজ্জামান কল্লোল।
 
জানা যায়, নগরীর কালিয়াজুরি এলাকায় অবস্থিত পিটিআই এর সুপারিনটেনডেন্ট পদে রাইহুল করিম গত ২৭ জানুয়ারি যোগদান করেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, রাইহুল করিম গত ২৮ জুলাই রাতে প্রশিক্ষণার্থী এক নারী শিক্ষককে পিটিআই কার্যালয়ে আসতে বাধ্য করেন। পরে তিনি ওই প্রশিক্ষণার্থীকে ফেনী এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে নিয়ে রাতভর যৌন নির্যাতন করেন। একপর্যায়ে ওই প্রশিক্ষণার্থী তাকে ব্লেড দিয়ে আঘাত করে পালিয়ে এসে বিষয়টি তার স্বামী ও সহকর্মীদের জানান। পরে বিষয়টি জেলার শিক্ষক নেতাদেরও জানানো হয়।
 
এ ঘটনা জানাজানি হলে এর প্রতিবাদে              প্রশিক্ষণার্থী ও নগরীর বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ফুঁসে ওঠেন। অভিযুক্ত সুপারিনটেনডেন্ট রাইহুল করিমের বিচার দাবি করে গতকাল বেলা ১১টার দিকে বিক্ষুব্ধ লোকজন পিটিআই’র সামনের সড়কে মানববন্ধন শেষে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন। পরে বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি সালেহা আক্তারের নেতৃত্বে জেলা প্রশাসকের নিকট স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। স্মারকলিপিতে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অধীনস্ত নারী সহকর্মী ও প্রশিক্ষণার্থীদের যৌন হয়রানি, কুরুচিপূর্ণ ও অশ্লীল কথাবার্তা, অঙ্গভঙ্গিসহ নানা অভিযোগ আনা হয়েছে।
 
এ ব্যাপারে পিটিআই’র সহকারী সুপার হারুন-অর রশীদ ভুঁইয়া সাংবাদিকদের জানান, ৩ মাস আগেও এ ধরনের অভিযোগে পিটিআই সুপারিনটেনডেন্ট ক্ষমা চেয়ে পার পেয়েছেন। তবে অভিযোগ সঠিক নয় দাবি করে অভিযুক্ত রাইহুল করিম জানান, একজন প্রশিক্ষণার্থীর ভর্তি বাতিল করায় প্রশিক্ষণার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে এ ধরনের অভিযোগ তুলেছে। শিক্ষক নেত্রী সালেহা আক্তার জানান, রাইহুল করিমের বিরুদ্ধে তার পূর্বের কর্মস্থল ফেনী থেকেও যৌন হয়রানিসহ নানা অভিযোগ পাওয়া গেছে। আমাদের আন্দোলনের মুখে ওই কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করার আদেশ হওয়ায় শিক্ষক-প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তিনি ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
 
জেলা প্রশাসক মোঃ হাসানুজ্জামান কল্লোল জানান, দুপুরে অভিযোগের বিষয়টি তাত্ক্ষণিকভাবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়। বিকালে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ওই কর্মকর্তাকে (রাইহুল করিম) প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে।
 
ইত্তেফাক / এ এন