রাজধানীর কূটনৈতিক এলাকায় যাত্রীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে বিশেষ রঙের রিকশা ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাস সেবা চালু করা হয়েছে। গুলশান, বারিধারা, বনানী ও নিকেতন সোসাইটির উদ্যোগে এটির বাস্তবায়ন করছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন। এতে সহায়তা করবে ঢাকা মহানগর পুলিশ।
গতকাল বুধবার গুলশান পুলিশ প্লাজার সামনে ‘ঢাকা চাকা’ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এই সার্ভিসের উদ্বোধন করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হক। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পুলিশের মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক, ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া, সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার ড. এটিএম শামসুল হুদা, গুলশান সোসাইটির মহাসচিব ওমর সাদাত প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, নিয়ন্ত্রিত এই বিশেষ সার্ভিস চালুর ফলে এ এলাকায় যানজট যেমন কমবে, তেমনি নিরাপত্তা জোরদার হবে। তিনি বলেন, আমরা যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। সম্ভাব্য সকল উপায়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ঢাকা মহানগরীর নাগরিক সমস্যা সমাধানে বর্তমান সরকার নানামুখী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। তিনি নগরবাসীর সমস্যা চিহ্নিত করে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণের জন্য সিটি করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানান। মন্ত্রী বলেন, ঢাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে মাস্টার প্ল্যান প্রণয়ন করা হচ্ছে। ঢাকার চারপাশের চারটি নদী খনন ও ঢাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নত করা হবে। তিনি বলেন, আগামী শুষ্ক মৌসুমে ঢাকায় সুপেয় পানির সমস্যা থাকবে না।
মেয়র আনিসুল হক বলেন, এসব এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ রঙের রিকশা চলবে। চালকদেরও বিশেষ পোশাক থাকবে। এসব রিকশা নির্দিষ্ট এলাকার বাইরে বের হতে পারবে না। আর দুটি রুটে চলবে বিশেষ বাস। এসব বিশেষ রিকশা ও বাস ছাড়া ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচল করতে পারবে।
‘ঢাকা চাকা’ নামের বিশেষ বাসগুলো পুলিশ প্লাজা থেকে গুলশান ২ নম্বর গোলচত্বর এবং কাকলী মোড় থেকে নতুন বাজার— এই দুটি রুটে প্রতি ১০ মিনিট পরপর ছাড়বে। প্রথম দফায় ১০টি বাস নিয়ে চালু করা হয়েছে। ২০ আগস্টের মধ্যে আরও ১০টি বাস যোগ হবে। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত প্রতিটি বাস ৩৫ আসনবিশিষ্ট। যে কোনো দূরত্বের ভাড়া ১৫ টাকা।
বাস সার্ভিস ছাড়াও গুলশানে ২০০, বনানীতে ২০০, বারিধারায় ও নিকেতনে ৫০টি করে বিশেষ রঙের রিকশা চলবে। রিকশাচালক ও মালিকদের বিস্তারিত পরিচয় নেয়া হয়েছে। বিভিন্ন গন্তব্যের ভাড়া নির্ধারণ করে তালিকা প্রতি রিকশায় লাগিয়ে দেয়া হয়েছে। যে কোনো তথ্য বা অভিযোগ জানানোর জন্য প্রতিটি রিকশায় একটি হটলাইন নম্বর দেয়া আছে।
ইত্তেফাক/ এ এন
