যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে শ্রীলঙ্কার কলম্বোস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনে জাতীয় শোক দিবস এবং জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪১তম শাহাদাত বার্ষিকী পালিত হয়। সোমবার সকালে হাই কমিশন প্রাঙ্গনে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে ছিল, আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও অর্ধনমিতকরণ; এক মিনিট নীরবতা পালন; বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ; পবিত্র গ্রন্থাবলী থেকে পাঠ; রাষ্ট্রীয় নেতৃবৃন্দের বাণী পাঠ; বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্ম এবং শোক দিবসের ওপর আলোচনা; দোয়া/প্রার্থনা; এবং বঙ্গবন্ধুর ওপর নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী।এতে মিশনের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ শ্রীলঙ্কায় বসবাসকারী প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিকববৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।
আলোচনা অনুষ্ঠানে বক্তারা বঙ্গবন্ধুর জীবন ও দর্শনের ওপর আলোকপাতসহ বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন এবং জাতি গঠনে তাঁর অসামান্য অবদানের কথা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন।তাঁরা ১৯৭৫ এর ১৫ অগাস্টের কালো রাতে সংঘটিত জাতির ইতিহাসের নির্মমতম হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করেন এবং বঙ্গবন্ধুসহ শাহাদাত বরণকারী সকল শহীদের আত্মার শান্তির জন্য প্রার্থনা করেন।
সমাপনী বক্তব্যে হাই কমিশনার-ডেজিগনেট রিয়াজ হামিদুল্লাহ বঙ্গবন্ধুর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং বাঙ্গালী জাতিসত্তার উন্মেষে তাঁর মূল্যবান অবদানের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। তিনি বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক বিশ্বাস এবং দর্শনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি আরো মন্তব্য করেন যে, বঙ্গবন্ধুর মূল্যবোধ-আদর্শ ও রুপকল্প; এবং একটি স্বাধীন বাংলাদেশ অর্জনের জন্য তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের প্রকৃত ইতিহাস বর্তমান প্রজন্মের কাছে যথাযথভাবে পৌঁছে দিতে হবে যাতে তারা তাঁর ভাবাদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তাঁর স্বপ্নের ‘সোনার বাংলাদেশ’ বাস্তবায়নের জন্য নিজেদেরকে সঠিকভাবে প্রস্তুত করে তুলতে পারে।
দিবসটি পালনের অংশ হিসেবে হাই কমিশন কলম্বোতে অবস্থিত ‘ফাতিমা ওয়েলফেয়ার সেন্টার’(এতিমখানা) এর ৭০ (সত্তর) জন এতিম শিশুর মাঝে উন্নত মানের খাবার বিতরণের ব্যবস্থা করে। এছাড়া, সেখানে বঙ্গবন্ধুসহ ১৯৭৫ এর ১৫ অগাস্ট তারিখে শাহাদাত বরণকারী সকল শহীদের আত্মার মাগফিরাতের জন্য একটি দোয়া-মাহফিলের আয়োজনও করা হয়।
