তিনি তখন কোলের শিশু, ওইটুকুন বয়সেই তার জীবন থেকে হারিয়ে যান তার বাবা। তারপর হাঁটতে শিখেছেন তিনি, শিখেছেন কথা বলতে। একে একে স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরিয়েছেন, বিয়েথাও করেছেন। কিন্তু নানা চেষ্টা-তদবিরের পরও আর বাবাকে খুঁজে পাননি, কিংবা বাবা খুঁজে পাননি তাকে!
তবে শেষমেশ বাবাকে খুঁজে পেয়েছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে তাকে তার বাবার সন্ধান এনে দিয়েছেন এক আগুন্তুক, যে বাবাকে বিগত ৪০ বছরে কখনো দেখেননি!
এই 'তিনি'টা হচ্ছেন ৩৯ বছর বয়সী ফারিয়া। তার জন্ম ও বেড়ে উঠা রাশিয়ার লেলিনগ্রাদে, যার বর্তমান নাম সেইন্ট পিটারসবার্গ। ফারিয়ার বাবা সোমালিয়ান, আর মা রাশিয়ান।
ফারিয়ার বাবার নাম সাঈদ আহমেদ শরিফ, যিনি পড়াশুনার জন্য নিজ দেশ ছেড়ে এসেছিলেন সোভিয়েত ইউনিয়নে। শুধু শরিফ নন; তার মতো আরও অনেকেই ১৯৭৪ সালের দিকে রাশিয়ার মিলিটারি ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্সটিটিউটে পড়াশুনার সুযোগ পেয়েছিলেন। আফ্রিকায় প্রভাব বিস্তারের আশায় এই সুযোগ দিয়েছিলো ইউএসএসআর বা ইউনিয়ন অফ সোভিয়েত সোশ্যালিস্ট রিপাবলিক্স।
IMG0
ফারিয়া জানান, তার বাবা রাশিয়ায় ছিলেন ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত। ১৯৭৪ থেকে ১৯৭৬ সালের কোনো এক সময়ে তার মায়ের প্রেমে পড়েন শরিফ। তারপর দুজনে মিলে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু বিয়ে আর করতে পারেননি। কারণ, তার জন্মের এক বছর পর সোমালিয়া তার প্রতিবেশী দেশ ইথিওপিয়ার সাথে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। এতে রাশিয়া থেকে বিতাড়িত হন শরিফ। তখন পরিস্থিতি এমন ছিলো যে, ফারিয়ার মাও বাসা পাল্টাতে বাধ্য হন। এরপর চার দশকের জন্য বউ ও মেয়ে ফারিয়া থেকে আলাদা হয়ে যান শরিফ।
ফারিয়ার বয়স যখন ১২, তখন তিনি বাবার সন্ধানে নামেন। নানা জায়গায় ছুটে যান তিনি। ইউএসএসআর থেকে রেড ক্রস, দূতাবাস থেকে মোগাদিসু। কিন্তু বাবার খোঁজ পাননি। এক পর্যায়ে হতাশ হয়ে বাবাকে খুঁজে পাওয়ার আশাই ছেড়ে দেন।
IMG1
কিন্তু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর উত্থান শুরু হলে আবার নতুন আশায় বুক বাধেন ফারিয়া। বাবার সাদাকালো ছবি দিয়ে নেটওয়ার্কিং সাইটগুলোতে পাত্তা লাগান। এসব করতে গিয়েই ডিক এম আফ্রিকা নামের এক ব্যক্তির সাথে পরিচয় হয় তার। ডিকের কাছে বাবা খোঁজার ব্যাপারে সাহায্য চেয়ে মেসেজ করেন ফারিয়া।
ফারিয়ার ভাষ্য, '১৬ মার্চ ডিক তার ফেসবুক পেজে ফারিয়ার ওই মেসেজ পোস্ট করেন। আর এতে সন্ধান পাওয়া যায় শরিফের, যিনি এখন নরওয়ের অসলো'তে আছেন।
এখন বাবাকে দেখার অপেক্ষায় সময় কাটছে ফারিয়ার। তিনি জানান, 'খবরটা পেয়ে প্রথমটায় আমার বিশ্বাসই হচ্ছিলো না। একটা স্বপ্ন সত্যি হতে যাচ্ছে। এমন একটি মুহূর্তের দেখা পাবো বলেই বিশ্বাস জমিয়ে রেখেছিলাম মনে।'
ইত্তেফাক/এএম
