গুলশানে হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলার ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসাবে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার শিল্পপতি ফজলে রহিম খানের পুত্র তাহমিদ হাসিব খানকে ছয়দিনের রিমান্ডে শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। দুই দফায় ১৪ দিনের রিমান্ড শেষে শনিবার দুপুরে তাহমিদকে আদালতে হাজির করেন ঢাকা মহানগর কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের সহকারী পুলিশ কমিশনার শহিদুর রহমান। মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি তাহমিদকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী তার জামিনের আবেদন করেন। ঢাকা মহানগর হাকিম দেলোয়ার হোসেন জামিন নামঞ্জুর করে তাহমিদকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
আদালতে আসামি পক্ষের আইনজীবী হামিদুর রহমান মামুন জামিন শুনানিতে বলেন, গুলশান হামলার ঘটনায় তাহমিদকে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে দুই দফায় ১৪ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। তাকে রিমান্ডে নিয়ে কোনো তথ্য উপাত্ত উদ্ধার করতে পারেনি। ওই হামলার সঙ্গে তিনি সম্পৃক্ত নন। তিনি পরিস্থিতির শিকার। তিনি মৃগী রোগেও আক্রান্ত। তাকে জামিন দিলে তিনি পালিয়ে যাবেন না।
উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
উল্লেখ্য, ১ জুলাই রাতে গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা চালিয়ে ১৭ বিদেশিসহ ২০ জনকে হত্যা করে জঙ্গিরা। পরে সেখানে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে কমান্ডো অভিযানে পাঁচ জঙ্গি ও একজন সন্দেহভাজন জঙ্গি নিহত হয়। হামলার ঘটনার দিন আগে দেশে ফেরা কানাডার টরোন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র তাহমিদ হাসিব খানও সেদিন ওই রেস্তোরাতেই ছিলেন। তবে ২ জুন সকালে সেনাবাহিনীর কমান্ডো অভিযানের তিনিসহ আরও কয়েকজনের সঙ্গে হলি আর্টিজান থেকে বেরিয়ে আসেন। পরবর্তীতে জঙ্গিদের সঙ্গে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির সাবেক শিক্ষক হাসনাত রেজাউল করিম ও তাহমিদের রহস্যজনক চলাফেরার ছবি ও ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ হলে পুলিশ তাদেরকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এ ঘটনায় গত ৪ আগস্ট হাসনাত ও তাহমিদকে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদলতের মাধ্যমে ৮ দিনের রিমান্ড নেয়। রিমান্ড শেষ হওয়ার পর হাসনাতকে হলি আর্টিজানে হামলা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আবারও ৮ দিনের রিমান্ড নেয়। তাহমিদকে একই দিন ৫৪ ধারায় আরো ৬ দিনের রিমান্ডে নেয়।
অন্যদিকে, নর্থ-সাউথ ইউনিভার্সিটির সাবেক শিক্ষক হাসনাত রেজাউল করিমকে টিএফআই (টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন) সেলে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। গত শনিবার ১৩ আগস্ট তাকে জিজ্ঞাসাবাদের আদালত ৮ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। শনিবার ছিল তার রিমান্ডের ৭ম দিন। এই দিনে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য টিএফআই সেলে নেয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষ হলেই তিনি এ হামলার সঙ্গে জড়িত কিনা তা ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।
ইত্তেফাক/এএম।
