স্ত্রীর মৃতদেহ দাহ করার কাঠ জোগাড়ের জন্য দরজায় দরজায় ঘুরেছেন। এমনকি, গিয়েছিলেন স্থানীয় পঞ্চায়েতেও। কিন্তু কাঠ কেনার জন্য আড়াই হাজার রুপি আর জোগাড় করতে পারেননি। তাই শেষপর্যন্ত তিন ঘণ্টা ধরে আবর্জনা কুড়িয়ে স্ত্রীর মৃতদেহ দাহ করলেন হিন্দু স্বামী!
ভারতের মধ্যপ্রদেশের নিমুচ জেলায় রতনগড় গ্রামে থাকেন উপজাতি সম্প্রদায়ের মানুষ জগদীশ ভিল। গত সপ্তাহে তার স্ত্রী নোজিবাই মারা যান। কিন্তু তার দেহ দাহ করবেন কী করে, কাঠ কেনার জন্য অর্থ না থাকায় সমস্যায় পড়ে যান জগদীশ ভিল। স্ত্রী মৃতদেহ ঘরে রেখে শুরু হয় এক দরজা থেকে আরেক দরজায় ঘোরা। সবাই মুখ ফিরিয়ে নেন, প্রায় তাড়িয়ে দেন জগদীশকে। অবশেষে তিনি দ্বারস্থ হন স্থানীয় পঞ্চায়েতের। কিন্তু পঞ্চায়েত থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়, তাদের সেই ফান্ড নেই।
দাহ করার টাকা জোগাড় করতে না পেরে অদ্ভুত এক রাস্তা নেন জগদীশ। এলাকা ঘুরে জোগাড় করতে থাকেন টায়ার, কাগজ, প্লাস্টিক। তারপর সেই সব আবর্জনা এক জায়গায় জড়ো করে আগুন জ্বালিয়ে সেখানেই স্ত্রী মৃতদেহ দাহ করেন তিনি।
জগদীশ ভিল জানিয়েছেন, কেউ কেউ বলেছিল, স্ত্রী মৃতদেহ নদীতে ভাসিয়ে দিতে। তা শেষপর্যন্ত তা করতে পারেননি জগদীশ ভিল। কিন্তু প্রতিবেশীদেরও এমন অবস্থা যে তারাও কোনও সাহায্য করতে পারেননি।
এ নিয়ে নিমুচের জেলাশাসক বলেছেন অন্য এক কথা। জেলাশাসক রজনীশ শ্রীবাস্তব বলেন, এর দায় স্থানীয় প্রশাসনের। আমাদের কাছে যখন খবর আসে তখন ওই ব্যক্তির স্ত্রীর মৃতদেহ দাহ করার জন্য কাঠ কিনে দেওয়া হয়। কিন্তু ততক্ষণে মৃতদেহ দাহ করা হয়ে গেছে।
ইত্তেফাক/এএম
