মিয়ানমারে শান্তি মিশনে কফি আনান

আপডেট : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৬, ১৪:৪৪
মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলের রাখাইন রাজ্যে ধর্মীয় সংঘাত তদন্তে পৌঁছেছেন জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান।  মঙ্গলবার পৌঁছানোর পর ময় শতশত কট্টরপন্থী বৌদ্ধ তাকে দুয়ো দিয়েছেন।
 
এ রাজ্যে ধর্মীয় সংঘাতে হাজার হাজার মুসলিম রোহিঙ্গা বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। ধর্মীয় দিক থেকে বিভক্ত ও দরিদ্র এ রাজ্যে ক্ষত সারানোর উপায় খুঁজতে মিয়ানমারের নতুন সরকারের অং সান সু চি সাবেক জাতিসংঘ প্রধানকে দায়িত্ব দিয়েছেন। 
 
রাখাইন রাজ্যে ২০১২ সালে রাখাইন বৌদ্ধ ও সংখ্যালঘু মুসলিমদের মধ্যে সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় শতাধিক নিহত হন। নিহতদের বেশিরভাগ মুসলিম।
বাড়ি ছেড়ে আশ্রয়শিবিরে চলে যেতে বাধ্য হয় প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার রোহিঙ্গা মুসলিম। সেখানে তাদের চলাফেরা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করে কর্তৃপক্ষ। তাদের স্বাস্থ্য সেবা ও অন্যান্য সেবা পাওয়ার সুযোগও সীমিত। নিপীড়ন থেকে বাঁচতে হাজার হাজার মানুষ নৌপথে পালিয়ে গেছে।
 
রাখাইন রাজ্যের সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্ত রয়েছে। কট্টরপন্থী বৌদ্ধদের ভাষায়, রাখাইন মুসলিমদের নাগরিকত্বের অধিকার নেই এবং তারা তাদেরকে ‘বাঙালি’ বলে অভিহিত করে।
 
গত মার্চে ক্ষমতায় আসার পর সু চি এ ব্যাপারে ধীর পদক্ষেপ নেন। ফলে তাকে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সমালোচনাও শুনতে হয়। গত মাসে তিনি সমস্যা সমাধানে একটি উপদেষ্টা কমিশনের নেতৃত্ব দিতে আনানকে আহবান জানান।
 
আনানকে বহনকারী গাড়ি বহর রাখাইন রাজ্যের বিমানবন্দর ছাড়ার সময় অনেকে তাকে দুয়ো দেন এবং চিৎকার করতে থাকেন ‘কফি নেতৃত্বাধীন কমিশন মানি না’। তাদের হাতে থাকা প্লাকার্ডে লেখা ছিল, ‘আমাদের রাখাইন রাজ্যের বিষয়ে বিদেশি পক্ষপাতদুষ্ট হস্তক্ষেপ মানি না’।
 
বিক্ষোভকারী কো থেইন বলেন, ‘আমরা হস্তক্ষেপ মানি না।’ তিনি বলেন, বুধবার কফি আনানের ফেরার সময়ও তারা এখানে বিক্ষোভ দেখাবেন। এএফপি
 
ইত্তেফাক/এমএইচ