নয় বছর বয়সে লাইব্রেরি তৈরি করে বস্তির শিশুদের পাঠদান!

আপডেট : ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৬, ১৬:৪২
পাশের এক দড়িতে ঝোলানো একটার পর একটা বই। দাওয়ায় বসে রয়েছে গুটিকয়েক অল্পবয়সী জ্ঞান অন্বেষী। আর তাদের সামনে বই হাতে নিয়ে পড়াচ্ছে এক খুদে 'শিক্ষিকা'। ভারতের মধ্যপ্রদেশের ভোপালে এক বস্তির সামনে দেখা মেলে এমনই এই আশ্চর্য দৃশ্যের।
 
অদ্ভুত এই লাইব্রেরিটির মালিক ছোট্ট মুসকান আহিওয়ার। র্যা কে সাজানো সারি সারি বইয়ের চেনা ছবির সঙ্গে তার লাইব্রেরিকে মেলানো যায় না। তা সম্ভবও নয়। কেননা, বস্তিতে থাকা মুসকানের পরিবারের কতটুকুই আর সামর্থ্য! কিন্তু সাধ্য যাই হোক না কেন, সাধে খামতি নেই। ইচ্ছেডানায় ভর করেই তাই তৈরি এই ছোট্ট গ্রন্থাগার। 
 
আহিওয়ারের লাইব্রেরির সব বই-ই সে পেয়েছে মধ্যপ্রদেশ রাজ্যের শিক্ষা কেন্দ্রের পক্ষ থেকে। নিজে বই পড়তে ভালবাসে। আর তার থেকেও ভালবাসে পড়াতে। আর তাই যে বস্তিতে পড়াশোনার বালাই প্রায় নেই, সেখানকার পরিবেশটাই বদলে দিয়েছে এই খুদে 'শিক্ষিকা'।
 
IMG0
 
এখন তার ক্লাস করতে সাগ্রহে হাজির হয় তার থেকে বড় প্রতিবেশীরাও। তাদের পড়ানোর ফাঁকে ফাঁকে নিজের স্কুলের পড়াও তৈরি করে নেয় সে। এমন মহৎ কাজে বাবা-মাকে সবসময় সঙ্গে পেয়েছে মুসকান। 
 
এ নিয়ে তার বক্তব্য, 'আমি খুব খুশি। বাবা-মা, বন্ধুরাও খুশি হয়েছে। ১২১টা বই দিয়ে লাইব্রেরিটা শুরু করে ছিলাম। এখন এখানে অনেক বই। প্রায় ৫০ জন এখানে পড়তে আসে। যারা এখনও আসে না, তাদের বলব তোমরাও এসো। বড় হয়ে নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে।'
 
IMG1
 
মুসকানের এই প্রশংসনীয় উদ্যোগের জন্য দিল্লির এনআইটিআই আয়োগের পক্ষ থেকে তাকে ‘থট লিডার’ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। রিও অলিম্পিকে ব্রোঞ্জজয়ী সাক্ষী মালিকের হাত থেকে শুক্রবার ওই পুরস্কার নেয় মুসকান। বড় হয়ে ডাক্তার হয়ে মানুষের সেবা করতে চায় সে। শিক্ষাই হল সমাজকে পাল্টে ফেলার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। সাফল্য পেতে নেলসন ম্যান্ডেলার এই বাণীকেই জীবনের মন্ত্র করেছে খুদে ‘শিক্ষিকা’ মুসকান।
 
ইত্তেফাক/এএম