অর্থের লোভ অনেক মানুষকেই বিপথে চালিত করে। শুধু অভাব অনটন থেকে মুক্তি পেতেই নয়, টাকার জন্য শিক্ষিত বা উঁচুতলার মানুষও জেনেশুনে অনেক বেআইনি কাজে জড়িয়ে পড়েন। এ সমাজের বুকেই তেমন নানা উদাহরণ ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। ফের তেমনই এক ছবি ধরা পড়ল ভারতের নয়াদিল্লীর গাজিয়াবাদে। সামান্য কিছু অর্থের জন্য দুধের শিশুকে বেআইনিভাবে কিনে বিক্রি করে দিল এক চিকিৎসক!
কথায় বলে নারী মায়ের রূপ। অথচ, এক মহিলা চিকিৎসকেরই লোভের শিকার হল শিশুটি। কিন্তু রাখে হরি মারে কে! পুলিশি তৎপরতায় তিন হাত ঘুরে নিজের বাবা মায়ের কাছেই অবশেষে ফিরে এসেছে ছোট্ট শিশুটি।
হলিউডের জনপ্রিয় ছবি 'বেবিস ডে আউট'-এর ধাঁচেই যেন ঘরের ছেলে ঘরে ফিরল। ঘটনাটা তাহলে খুলে বলা যাক। শচীন ও পুজা ৫ বছর ও ১৩ মাসের দুই ছেলেকে নিয়ে গাজিয়াবাদের লক্ষ্মীনগরের একটি ফ্ল্যাটে থাকেন। পুজার ভাই ও ভাইয়ের বন্ধু সুনীল একই এলাকার বাসিন্দা। গত সপ্তাহে দুই ছেলেকে বাড়িতে রেখে ভাইয়ের বাড়ি থেকে জল আনতে গিয়েছিলেন পুজা। সদর দরজা খোলাই ছিল। শচীনও বাড়ি ছিলেন না। মাকে বাইরে যেতে দেখে বড় ছেলেও পিছু পিছু যায়। আর সেই সুযোগে পুজা ও শচীনের বাড়িতে ঢুকে ১৩ মাসের যশকে তুলে নিয়ে চম্পট দেয় সুনীল। এই কাজে তার সঙ্গী ছিল রাহুল।
সেখান থেকে বেরিয়ে এক মুহূর্ত দেরি না করে চাঁদবীর নামের এক ব্যক্তিকে ফোন করে সুনীল। বিক্রির জন্য চাঁদবীর ও পুনমের কাছে যশকে দিয়ে দেয় সুনীল। এদিকে, বাড়ি ফিরে পুজা দেখেন দোলনায় তার ছেলে শুয়ে নেই। সঙ্গে সঙ্গে ত্রোনিকা সিটি থানায় ছেলে অপহরণের অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। আর যশ? হাত বদলের পালা তখনও শেষ হয়নি।
চাঁদবীরের কাছ থেকে ৭০ হাজার রুপির বিনিময়ে যশকে কিনে নেয় ডক্টর অনিতা ভিজ। যশকে কেনার পিছনে অনিতার একটাই উদ্দেশ্য ছিল, আরও চড়া দামে তাকে বিক্রি করে কিছু অর্থ উপার্জন করা। ৩ লাখ রুপির বিনিময়ে যশকে সন্তানহীন দম্পতি জৈন ও তার স্ত্রী অর্চনার হাতে তুলে দেয় অনিতা।
ঘটনার খবর পাওয়া মাত্র সুনীলের সঙ্গী রাহুলকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেই সুনীল ও চাঁদবীরের হদিশ মেলে। চাঁদবীর ও পুনমকে গ্রেফতার করলে অনিতার কথা জানতে পারে পুলিশ। অবিলম্বে অনিতা ও জৈনকে গ্রেফতার করা হয়।
তবে অর্চনা এখনও নিখোঁজ। ছোট্ট যশকে ফিরে পেয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন পুজা ও শচীন।
ইত্তেফাক/এএম
