ঢাকার রাস্তায় ‘রক্তনদী’ দেখল নগরবাসী

আপডেট : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৬, ১৫:০৬
আক্ষরিক অর্থেই যেন রক্তের নদী দেখল ঢাকাবাসী।  ঈদুল আযহায় কুরবানির পরে বৃষ্টি হওয়ায়। রক্তের সঙ্গে পানি মিশে যেন তৈরি হলো ‘রক্তগঙ্গা’। মঙ্গলবার কোরবানির পশুর রক্ত পানিতে মিশে এক ‘রক্তলাল ঢাকা’ দেখল রাজধানীবাসী।
 
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির তথ্যমতে, পবিত্র ঈদুল আজহার দিন প্রায় ১ লাখ পশু কোরবানি হয় ঢাকায়। উৎসবের এ দিনে সকাল থেকে থেমে থেমে বৃষ্টি হয়। বৃষ্টিতে অধিকাংশ রাস্তায় কোথাও দুই ফুট, কোথাও এক ফুট পানি জমে যায়। বৃষ্টির পানিতে উৎসব উদযাপন ব্যাহত হয়।
 
একটু ভারি বৃষ্টি হলেই ঢাকা অনেক জায়গায় বন্যার মতো পরিস্থিতি দেখা দেয়। ভারি বৃষ্টি হলে তো কথাই নেই। প্রধান সড়কগুলোতেও হাঁটু সমান পানি জমে যায়। দুর্ভোগে পড়েন নগরবাসী। এবার ঈদুল আজহার দিন এ দুর্ভোগ চরমে পৌঁছায়।
পানি জমে যাওয়ায় বলতে গেলে ঘর থেকে বের হতে পারেনি লোকজন। তা ছাড়া রাস্তায় জমে থাকা পানিতে কোরবানির পশুর রক্ত ও বর্জ একাকার হয়ে যাওয়ায় ঘর থেকে বের হওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
 
কোরবানির দিনে যে চিত্র দেখা গেছে, তা থেকে প্রশ্ন উঠেছে ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিয়ে। ঢাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থা খুবই দুর্বল। বেশির ভাগ ড্রেন খোলা এবং ময়লা-আবর্জনা দিয়ে ভরা। ফলে একটু বৃষ্টি হলেই তা ভরে পানি উপচে রাস্তায় চলে আসে। ড্রেনের ময়লা-আবর্জনা পানিতে মিশে পরিবেশ দূষণ ঘটায়। এতে পানিবাহিত নানা রোগজীবাণুতে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
 
‘রক্তের নদী’র ছবি এসময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পরে। সমালোচনা চলতে থাকে। কুরবানীর জন্য  এক হাজারের বেশি  জায়গা ঠিক করে দিয়েছিল ঢাকা সিটি কর্পোরেশন। তবে যেখানে সেখানে কুরবানী করায় এই অবস্থার সৃষ্টি হয় বলে মনে করেন অনেকে।
 
ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পরই। কর্তৃপক্ষের সমালোচনা করতে থাকেন সবাই। একইসঙ্গে নিষ্কাশনের সুব্যবস্থা করার দাবি জানানো হয়। সিএনএন
 
ইত্তেফাক/এমএইচ