জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যাকারী নূর চৌধুরীকে নিয়ে দেশের মিডিয়ার খবর এবং একজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীর বক্তব্য কানাডা প্রবাসীদের মধ্যে বিভ্রান্ত সৃষ্টি করেছে। ঢাকার একটি দৈনিক ও অনলাইন কাগজের সংবাদ 'খুনি নূর চৌধুরীর আবেদন নাকচ, বহিষ্কারের নির্দেশ' এবং মন্ত্রীর বক্তব্য 'কানাডা নূর চৌধুরীর অভিবাসন নবায়ন করেনি' বিভিন্ন মহলে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করছে। কানাডা প্রেস ও কানাডার অন্যান্য সংবাদ মাধ্যমে বিষয়টির কোন সত্যতা মেলেনি।
নূর হোসেন কানাডায় থাকার আবেদন বেশ পুরাতন বিষয়, নতুন করে তার 'আবেদন নাকচ' সম্ভব নয় এবং তাকে 'বহিষ্কারের নির্দেশ' বিষয় তথ্যটিও সঠিক নয়। কারণ, এখন নূর যে অবস্থায় আছে, (হিউম্যান গ্রাউন্ডে) যেখানে তার 'অভিবাসন নবায়ন' বিষয়টিও অবান্তর।
এদিকে নূর চৌধুরীর সর্বশেষ অবস্থা জানার জন্য অটোয়াস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের নতুন হাই কমিশনার মিজানুর রহমানকে ইত্তেফাকের পক্ষ থেকে ফোন করা হলে তিনি জানান, 'আমরা সরকারকে ক্ল্যারিফাই (পরিষ্কার) করে দিয়েছি। আর কিছু জানতে চাইলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করুন।' এর বেশি আর কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।
এদিকে নূর চৌধুরীকে ফেরত দেয়ার বিষয়ে কানাডার প্রধানমন্ত্রীকে এক চিঠি দেয়ার পরিপ্রেক্ষিতে তা সিটিজেন অ্যান্ড ইমিগ্রশন মন্ত্রণালয় হয়ে এখন মিনিস্ট্রি অফ পাবলিক সেফটিতে রয়েছে। কানাডার স্থানীয় সময় ১৯ সেপ্টেম্বর মিনিস্ট্রি অফ পাবলিক সেফটির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রালফ গোডাল এম পি'র সেই চিঠির উত্তর প্রদান করেছেন। দীর্ঘ সেই চিঠিতে বলা হয়, নূরের বিষয়টি অনেকটা অমীমাংসিত এবং এখন তা আইনি প্রক্রিয়ার বিষয়।
নূর চৌধুরীকে দেশে ফেরত আনার বিষয়ে কানাডার একটি আইন বিষয়ক ফার্মের সঙ্গে আলোচনার বিষয়টিও জানা গেছে। তবে বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত এই খুনিকে ফেরত আনার বিষয়টি এখনও বেশ কঠিন। কারণ জটিলতায় জড়ানো বিষয়টি কানাডার আইন, আদালত, ইমিগ্রশন, বর্ডার ও সেফটিসহ একাধিক মন্ত্রণালয় নানা ভাবে জড়িত।
ইত্তেফাক/আরএ
