জামালপুর পৌর শহরে পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় অল্প বৃষ্টিতে জেলা শহরের প্রধান সড়কসহ বিভিন্ন স্থানে পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে আসছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতে প্রতিনিয়তই শহরবাসীসহ স্কুল কলেজ গামী শিক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, গত ২৫ সেপ্টেম্বর বিকালে ভেপসা গরমের পর হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হলে শহরের প্রধান সড়ক শহীদমিনার মোড় থেকে শুরু করে গেইটপাড়, ষ্টেশন ষ্টেশন রোড, মালগুদাম রোড়, মৃধাপাড়া রোড, চামড়া গোদাম মোড় থেকে পাঁচ রাস্তা মোড় পর্যন্ত এ ছাড়া কলেজ রোড-গোলাপবাগ-নায়াপাড়া এলাকার বেশ কিছু সড়ক জলমগ্ন হয়ে পড়ে।
জামালপুর রেলওয়ে উচ্চ বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায় স্কুল ঘরে হাঁটু পানি। শহরের অধিকাংশ এলাকার সড়কে পানিতে সয়লাব করায় ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক, হোন্ডা টয়োটা গাড়ি তলিয়ে যায়। আবার কোথা হাঁটু পানি বসত ঘরে জমে থাকতে দেখা যায়। ফলে এসব এলাকায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসহ শহরবাসীর যাতায়াত বন্ধ হয়ে যায়। খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, ওই সব এলাকায় মান্ধাতার আমলে ড্রেন, দীর্ঘ দিনেও সংস্কার করা হয়নি, যতটুকু আছে,তাতে দীর্ঘ দিন যাবত পরিষ্কার পরিচ্ছন্নের অভাবে ময়লা আবর্জনা পলিথিনে ড্রেনে মাটি ভরাট হয়ে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা একেবারে ভেঙ্গে পড়েছে। পৌর কর্তৃপক্ষ দেখে শুনে যেন চোখ বুজে বসে রয়েছে। যেন দেখার কেউ নেই। এ বিষয়ে ইজিবাইক চালক শহিদুল,সাকিব,আসলাম বলে, শহরে সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তা-ঘাট তলিয়ে যায়। এতে গাড়ি চালাতে খুবই সমস্যা হয়।
পানি জমে থাকার কারণে বাইক যেমন নষ্ট হয়,ঠিক তেমনি যাত্রীও পাওয়া যায় না।গেইটপাড় এলাকার ঔষধের দোকান মালিক মো. ছামিউল ইসলাম বলেন,শহরে সামান্য বৃষ্টি হলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। রাস্তাসহ দুই পাশের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ময়লা আবর্জনার পানি থৈ-থৈ করে। বাধ্য হয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দোকান ঘর বন্ধ রাখতে হয়।
IMG0
মেডিকেল রোডের আরিফ মেডিসিন কর্নার মালিক ওষুধ ব্যবসায়ী আরিফ জানায়, শহরের প্রধান সড়কে সামান্য বৃষ্টিতে পানি জলাবদ্ধতায় যানবাহন চলা-চলের সময় পানি ছিটকে দোকানের মধ্যে প্রবেশ করে। জলাবদ্ধতার কারণ হিসাবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সড়কের দু’ পাশের ড্রেন গুলো অতি ছোট হওয়ায় এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া পলিথিন,ময়লা আবর্জনা, কাঁদা -নর্দমা ভরাট হয়ে গেছে।দীর্ঘ দিনেও এসব ড্রেন পৌর কর্তৃপক্ষ মাসের পর মাস এমনকি নিয়মিত পরিষ্কার না করায় এই জলাবদ্ধতার প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।জামালপুর রেলওয়ে উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো.মনিরুজ্জামান বলেন, পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতে স্কুলে প্রবেশ করে। এতে শিক্ষার্থীদের লেখা-পড়া যাতায়াত করতে সমস্যায় পড়তে হয়।জামালপুর সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের এইচএসসি প্রথম বর্ষের ছাত্র মনির হোসেন বলেন, বৃষ্টি হলেই শহরে হাঁটু পানি জমে যায়। ফলে শহরের সড়ক দিয়ে যাতায়াত করা খুব সমস্যার মধ্যে পড়তে হয় ছাত্র-ছাত্রীদের।
এ ব্যাপারে জামালপুর পৌর সভার মেয়র মীর্জা সাখায়াতুল আলম মনি বলেন, ভারি বৃষ্টি হলে পানি ড্রেন দিয়ে নামতে সময় লাগে। তবে সব চেয়ে বড় সমস্যা সড়কের দুই পাশে ব্যবসায়ীরা ময়লা ফেলে ও বিভিন্ন সরঞ্জাম রেখে ড্রেন বন্ধ করে রাখে। ফলে কিছু কিছু সড়কে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।
ইত্তেফাক/আরএ
