চলতি বছর চিকিত্সায় নোবেল পুরস্কার পাচ্ছেন জাপানের ইয়োশিনোরি ওসুমি। জীবজগতের কোষের পুনর্ব্যবহার সংক্রান্ত গবেষণার জন্য তাকে এই পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। আমরা সংসারে যেমন হরলিক্সের বোতলে ঘি এবং পানির বোতলে মসলা রেখে এর পুনর্ব্যবহার করি তেমনি শরীরের কোষেরও পুনর্ব্যবহার করা সম্ভব। এই আবিষ্কারের জন্যই ইয়োশিনোরি ওসুমির ভাগ্যে জুটেছে বিশ্বের সবচেয়ে সম্মানজনক পুরস্কার হিসেবে খ্যাত নোবেল পুরস্কার। পুরস্কার বাবদ ৮০ লাখ সুইস ক্রোনার বা ৭ লাখ ১৮ হাজার ডলার তুলে দেওয়া হবে তার হাতে।
সুইডেনের কারোলিনস্কা ইনস্টিটিউট গতকাল সোমবার চিকিত্সা বিজ্ঞানে চলতি বছরের বিজয়ী হিসেবে ইয়োশিনোরি ওসুমির নাম ঘোষণা করে। নোবেল কমিটি বলছে, ঠিক কোন জটিলতার কারণে ক?্যান্সার থেকে শুরু করে পারকিনসন্স ডিজিজের মত জটিল রোগ হয়, তা বুঝতে ইয়োশিনোরি ওসুমির গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কোষের পুনর্ব্যবহারের বৈজ্ঞানিক নাম ‘অটোফাজি’। দু’টি গ্রিক শব্দের সম্বন্বয়ে তৈরি হয়েছে ‘অটোফাজি’ শব্দটি। ‘অটো’ মানে নিজের থেকে। আর ‘ফাজেইন’র বাংলা দাঁড়ায় খাওয়া। কোষের মধ্যে নিজেকেই নিজে খেয়ে নেওয়ার পদ্ধতিটি অটোফাজি। এই আত্মভক্ষণ কিন্তু কোষের ক্ষতি করে না। বরং কোষকে সজীব রাখতে সাহায্য করে। আর এই আত্মভক্ষণে কোনও সমস্যা হলেই পার্কিনসন্স, ক্যানসার, টাইপ-২ ডায়াবেটিসের মতো নানা রোগের উত্পত্তি হতে পারে।
আত্মভক্ষণ বলা সহজ। কিন্তু, অতি জটিল একটি প্রক্রিয়া। ১৯৬০ এর দশকে প্রথম এ নিয়ে চিন্তা-ভাবনা শুরু হয়। কীভাবে কোষ তার নিজের অপ্রয়োজনীয় অংশ নিজেই ধ্বংস করে ফেলছে তা নিয়ে ধারণা ছিল। প্রথমে কোষ অপ্রয়োজনীয় অংশটির চারপাশ মেমব্রেন বা পর্দা দিয়ে ঘিরে ফেলে থলির মতো তৈরি করে। তারপর থলিগুলো ভাসতে ভাসতে কোষের পুনর্ব্যবহারের কারখানা ‘লিসোজোমে’ চলে যায়। পরে উেসচক ধ্বংসের কাজ চালায়। এতে কোষগুলো বর্জ্যমুক্ত হয়ে সজীব হয়। কিন্তু এই ঘটনাটিকে চাক্ষুষ করা খুব শক্ত। ফলে ৯০’-এর দশকের আগে পর্যন্ত ঘটনাটি প্রমাণ করা যায়নি। জাপানে নিজের গবেষণাগারে ‘ইস্ট’-এর কোষে প্রথম ইওশিনোরি ওসুমি এই প্রক্রিয়াটির জন্য দায়ী জিনকে চিহ্নিত করেন। পরে ইস্টে কীভাবে এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয় তা দেখান। তারপর মানবদেহের কোষেও এই জটিল প্রক্রিয়াটি কীভাবে হয় তাও ব্যাখ্যা করেন। ‘আমি বিশেষ প্রতিযোগিতায় সামিল হতে তাই না। তাই নতুন বিষয় খুঁজি। বিষয়টি বিজ্ঞানের জগতে সেভাবে জনপ্রিয় না হলেও।’ -২০১২ সালে এক সাক্ষাত্কারে এ কথা বলেছিলেন ইয়োশিনোরি ওসুমি। যখন কাজটি শুরু করেছিলাম তখন এটা নিয়ে বিশেষ চর্চা হত না। নানা বিষয় নিয়ে ঘাঁটতে ঘাঁটতে এই আত্মভক্ষণ পদ্ধতিটি বিস্তারিত জানাতে আগ্রহ জাগে ইয়োশিনোরি ওসুমি।
ইত্তেফাক/এএন
