শাবি ছাত্রীকে অপহরণের চেষ্টা চবি'র ভাই-বোন শিক্ষার্থীর!

আপডেট : ০৮ অক্টোবর ২০১৬, ১৫:৩৪
 
কলেজ ছাত্রী খাদিজা আক্তার নার্গিসকে কোপানোর ঘটনায় যেখানে দেশজুড়ে তোলপাড় চলছে সেখানে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃ বিজ্ঞান বিভাগের এক ছাত্রীকে ক্যাম্পাসে মারধরের ঘটনা ঘটে। অবশ্য এ ঘটনার জন্য চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ভাই-বোন শিক্ষার্থীকে আটক করেছে জালালাবাদ থানা পুলিশ।
 
আটককৃতরা হচ্ছে- চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০৬-০৭ সেশনের শিক্ষার্থী হবিগঞ্জ সদর উপজেলার বহুলা ইউনিয়নের পশ্চিম বাইত গ্রামের কাওসার আহমেদ ও তার বোন একই বিশ্ববিদ্যালয়ের আইইআর বিভাগের ২০১৩-১৪ সেশনের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।
 
নির্যাতিত ছাত্রী শাবির নৃবিজ্ঞান চতুর্থ বর্ষ দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী।  ওই ছাত্রীর সঙ্গে দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলে জালালাবাদ থানা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে কাওসার জানিয়েছে। একই এলাকায় কাওসার ও ঐ ছাত্রীর  বাড়ি।
 
ক্যাম্পাস সূত্র জানায়, শুক্রবার দুপুরে মেয়েটির সঙ্গে দেখা করতে ক্যাম্পাসে আসেন কাওছার আহমদ ও তার বোন। বোন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী। তিনি শাবি‘র প্রথম ছাত্রী হল থেকে ওই ছাত্রীকে নিয়ে আসেন। এক পর্যায়ে রিক্সায় তোলার জন্য তাকে চাপাচাপি শুরু করে। ছাত্রীটি রিক্সায় উঠতে অপারগতা প্রকাশ করলে কাওসার ও তার বোন মিলে তাকে মারধর করে। জুমার নামাজে যাওয়ার পথে শাবি‘র গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. সাজেদুল করিম বিষয়টি প্রত্যক্ষ করেন। এক পর্যায়ে শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. সামসুল আলম ও ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর প্রফেসর ড. রাশেদ তালুকদার ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। এ সময় তারা কাওসারকে থামানোর চেষ্টা করেন। নামাজের সময় হয়ে যাওয়ায় তারা কাওসার ও তার বোনকে ভিসি ভবনে সিকিউরিটির জিম্মায় রেখে নামাজে যান।
 
নামাজ থেকে ফেরার পর জালালাবাদ থানার ওসি আখতার হোসেনও ছুটে আসেন ঘটনাস্থলে। এক পর্যায়ে প্রক্টর তাদেরকে পুলিশের হাতে তুলে দেন। তাদেরকে ভ্যানযোগে জালালাবাদ থানায় নিয়ে যাওয়ার পথে সাধারণ ছাত্র ও ছাত্রলীগ কর্মীরা মিলে কাওছারকে গণধোলাই দেয়। এ সময় পুলিশসহ কয়েকজন শিক্ষক লাঞ্ছিত হন। জালালাবাদ থানার ওসি আক্তার হোসেন জানান,  কাওছার ও তার বোনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।  মারধরের শিকার হওয়া ছাত্রীও পুলিশের জিম্মায় রয়েছেন। এরই মধ্যে তার বক্তব্য রেকর্ড করা হয়েছে। শাবি‘র ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর অধ্যাপক ড. রাশেদ তালুকদার বলেন, ছাত্রীকে মারধরের ভিডিও ফুটেজও রয়েছে। ছাত্রীর বক্তব্য জানার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।
 
ইত্তেফাক/আরএ