কলেজছাত্র নাঈম হত্যার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলো বিষু

আপডেট : ২৩ নভেম্বর ২০১৮, ১৫:১০

বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে কলেজছাত্র নাঈম হত্যার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে আসামি শ্রাবণ ইসলাম ওরফে বিষু। বৃহস্পতিবার রাতে সারিয়াকান্দি থানায় বগুড়ার সহকারী পুলিশ সুপার (গাবতলী সার্কেল)  তাপস কুমার পাল প্রেস ব্রিফিং এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, গাবতলী উপজেলার মড়িয়া গ্রামের ইন্তেজার সোনারের ছেলে ও বগুড়া বিট ইন্সটিটিউটের টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের শেষ বর্ষের ছাত্র নাঈম ইসলামকে হত্যা করে মোটরসাইকেল নেওয়ার উদ্দেশ্যে পরিকল্পনা করে বিষু ও তার একজন সহযোগী। সে পরিকল্পনা অনুযায়ী নাইমকে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে মোবাইল ফোনে সারিয়াকান্দিতে ডেকে নেওয়া হয়। ১৫ নভেম্বর ১১টার দিকে কালিতলা গ্রোয়েন বাঁধে বিষু, মনির, নাঈম, সিহাব, সাব্বির ও সাব্বিরের এক মেয়ে বন্ধু ঘোরাফেরা করে। ঘোরাফেরা করে সাব্বির ও তার মেয়ে বন্ধু রিক্সায় এবং নাইমের মোটরসাইকেলে নাঈম, বিশু ও মনির এবং সিহাব তার মোটরসাইকেল নিয়ে বিশুর বাসায় রওনা হয়।


তিনি আরো বলেন, সিহাবের মোটরসাইকেল নষ্ট হওয়ায় সে আর বিশুর বাসায় না এসে মোটরসাইকেল ঠিক করে চলে যায়। অন্যরা বিশুর বাসায় যায়। বিকেল ৩টার দিকে সারিয়াকান্দি বাজারের নিকট বিশুর ভাড়া বাসায় বিশু ও তার এক সহযোগী মিলে কৌশলে নাঈম ও মনিরকে ঘুমের ওষুধ মেশানো পানি খাওযায়। তারপর নাঈম ও মনিরকে সাথে নিয়ে মোটরসাইকেলে যোগে বিশু রামচন্দ্রপুর এলাকা থেকে ২ বোতল এ্যালকোহল নিয়ে আবার তার বাসায় ফিরে সবাই মিলে এ্যালকোহল পান করে। বিশু ও তার সহযোগী মিলে এ্যালকোহলে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে কৌশলে নাঈম ও মনিরকে খাওয়ায়। মনির তার বন্ধু সিহাবের সাথে দেখা করার জন্য বিশুকে সাথে নিয়ে আবার কালিতলা গ্রোয়েন বাঁধে যায়। কিন্তু সিহাবের সাথে দেখা না হওয়ায় আবার ফিরে এসে দেখে নাঈম ঘুমিয়ে আছে। মনির নেশায় ও ঘুমে টালমাটাল হলে তাকে অন্য একটি বাসায় রেখে আসলে সেখানে সে ঘুমিয়ে পরে।

সাব্বির ও সাব্বিরের মেয়ে বন্ধু বিকেল ৪টার দিকে বিশুর বাসা তেকে বের হয়ে চলে যায়। এরপর ঠান্ডা মাথায় কিলিং মিশন শুরু করে বিশু ও তার সহযোগী এক জন। নাঈমকে অন্য কক্ষ থেকে অচেতন অবস্থায় বিশুর শয়ন কক্ষে নেয়। নাঈমের মুখে কষ্টেপ লাগিয়ে গরু জবাই করার বড় ছুরি দিয়ে বিশুর সহযোগী নাঈমের পেটে আঘাত করে। রক্ত মাখা ছুরি দিয়ে বিশু ২য় আঘাত করার সময় বিশুর হাত কেটে যায়। এরপর বিশুর সহযোগী নাইমের পেটে আরো তিনটি আঘাত করে। মৃত্যু নিশ্চিত না হওয়ায় বিশু নাইমের পা ধরে থাকে এবং বিশুর সহযোগী নাঈমকে জবাই করে হত্যা নিশ্চিত করে। লাশ গুম করতে না পেয়ে রাত তিনটার দিকে সারিয়াকান্দি বাজারের দক্ষিণ-পূর্ব পাশে নির্জন জায়গায় নাইমের লাশ পলিথিনে তুলে আগুন দিয়ে পুড়ে ফেলে। পরের দিন শুক্রবার সকালে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। পরবর্তীতে নাঈমের মোটরসাইকেল, রক্তমাখা জামা পরিত্যক্ত অবস্থায় এবং বিশুর বাসা থেকে রক্তমাখা ছুরি, বালিশ, বিছানার চাদর, চাপাতি, বটি, নাইমের জুতা, এনআইডি কার্ড, মানিব্যাগসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করে।

এ ব্যাপারে নাইমের মা নাজমা বেগম বাদী হয়ে ৬জনকে আসামী করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করে। পুলিশ বিশুসহ নাইমের ৪ বন্ধুকে গ্রেফতার করে।

সহকারী পুলিশ সুপার তাপস কুমার পাল আরো জানান, বিশু ও তার এক সহযোগী নাঈমকে হত্যা করেছে । অপর ৪বন্ধু ঘটনার দিন নাইমের সাথে ঘোরাফেরা করলেও হত্যার সাথে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

ইত্তেফাক/বিএএফ