জমে উঠেছে ঢাবি শিক্ষক সমিতির নির্বাচন

আপডেট : ০৬ ডিসেম্বর ২০১৬, ১৭:৪৮
 
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি কার্যকরী পরিষদ নির্বাচন ২০১৭ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৮ ডিসেম্বর। শেষ মুহূর্তের প্রচারণা মুখর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক লাউঞ্জ, বিভাগীয় কার্যালয় সহ পুরো ক্যাম্পাস। নিজের পক্ষে ভোট টানতে নানা ধরনের নির্বাচনী অঙ্গীকার নিয়ে ভোটারদের কাছে হাজির হচ্ছেন শিক্ষকরা।
 
নির্বাচনে নীল দল থেকে সভাপতি পদে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামালকে এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন অধ্যাপক ড. রহমত উল্যাহ। আর বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত শিক্ষকদের প্যানেল সাদা দল থেকে সভাপতি পদে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম। আর সাধারণ সম্পাদক পদে মনোনয়ন পেয়েছেন অধ্যাপক ড. লুৎফর রহমান।
 
এ ছাড়া বাম সমর্থিত গোলাপী দল থেকে সভাপতি হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন অধ্যাপক ড. এম এম আকাশ এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন অধ্যাপক ড. শেখ হাফিজুর রহমান কার্জন। নীল দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. নাজমা শাহীন বলেন, প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে। সভাপতি হিসেবে অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে অধ্যাপক ড. রহমত উল্যাহকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
 
নীল দলের প্রার্থীবৃন্দ
সভাপতি- অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল চেয়ারম্যান, দুর্যোগ বিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগ। সহ-সভাপতি- অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম ডিন, বিজনেস স্টাডিজ বিভাগ। কোষাধ্যক্ষ- অধ্যাপক ড. মো: আব্দুস ছামাদ চেয়ারম্যান, ফলিত গণিত বিভাগ। সাধারণ সম্পাদক- অধ্যাপক ড. মো. রহমত উল্লাহ আইন বিভাগ। যুগ্ম সম্পাদক- অধ্যাপক ড. আবু জাফর মো. শফিউল আলম ভূঁইয়া চেয়ারম্যান, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র অধ্যয়ন বিভাগ।
 
সদস্য পদে ১০ জন
অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, ড. মো. ইমদাদুল হক, অধ্যাপক ড. মাহবুবা নাসরীন, অধ্যাপক ড. মো. নিজামুল হক ভুঁইয়া, অধ্যাপক ড. মো. বায়তুল্লাহ কাদেরী, অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুর রহমান, অধ্যাপক ড. তাজিন আজিজ চৌধুরী, অধ্যাপক ড. মো. আফতাব আলী শেখ, অধ্যাপক ড. বিমান চন্দ্র বঁড়ুয়া, সহযোগী অধ্যাপক মিসেস লাফিফা জামাল।
 
সাদা দলের প্রার্থী
সভাপতি- অধ্যাপক ড. মো. সিরাজুল ইসলাম, ম্যানেজমেন্ট বিভাগ। সহ-সভাপতি- অধ্যাপক ড. লায়লা নূর ইসলাম, প্রাণ রসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগ। কোষাধ্যক্ষ- অধ্যাপক ড. মো. মোর্শেদ হোসেন খান মার্কেটিং বিভাগ। সাধারণ সম্পাদক- অধ্যাপক জনাব মো. লুৎফর রহমান, পরিসংখ্যান, প্রাণ পরিসংখ্যান ও তথ্য পরিসংখ্যান বিভাগ। যুগ্ম সম্পাদক- অধ্যাপক ড. গোলাম রাব্বানী, সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনিস্টিটিউট।
 
সদস্য পদে ১০ জন
অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর, অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ, অধ্যাপক ড. মো. ছিদ্দিকুর রহমান খান, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুজ্জামান, অধ্যাপক ড. মো. আখতার হোসেন খান, অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল করিম, অধ্যাপক ড. মো. আসলাম হোসেন, অধ্যাপক ড. সুকোমল বঁড়ুয়া, অধ্যাপক মিসেস হোসনে আরা বেগম।
 
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এক শ্রেণীর মানুষ ঈর্ষান্বিত হয়ে কুরুচিপূর্ণ কার্যকলাপে লিপ্ত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন নীল দলের সভাপতি প্রার্থী অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল। তিনি বলেন, ‘নীল দলের সহ-সভাপতি প্রার্থী বিজনেস স্টাডিজ বিভাগের ডিন অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম এর নামে মিথ্যা ভিত্তিহীন তথ্য ও লিফলেট প্রচার করছে একটি মহল। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সম্মান নষ্ট হচ্ছে। এটি মোটেও ভাল কাজ নয়।’ 
 
যারা এ ধরনের কাজ করছেন তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।’ এ ধরনের হীন কাজে কারো ভোট কমে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমতি নিয়ে সব ভাল ও উন্নয়নমূলক কাজ করছেন। আর এ কারণে তার প্রতি এবং স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি নীল দলের প্রতি গত দুই বারের মতো এবারও শিক্ষকদের রায় আসবে। 
 
উল্লেখ্য, বিজনেস স্টাডিজ বিভাগের ডিন অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম এর বিরুদ্ধে করা একটি উদ্দেশ্যমূলক মামলা (পিটিশন নং-৯০৭৫) গত ২৭ নভেম্বর ২০১৬ তারিখে নিষ্পত্তি হয়েছে। এতে আদালতের রায় তার পক্ষে এসেছে। বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম এবং বিচারপতি মো. খসরুজ্জামান এর দ্বৈত বেঞ্চে এই রায় প্রদান করা হয়। শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম বলেন, এই মামলার তথ্য মিথ্যা ও বিভ্রান্তিমূলক ভাবে প্রচার করছে স্বার্থান্বেষী একটি মহল। এ বিষয়ে সকলকে সতর্ক থাকার জন্য তিনি অনুরোধ করেন।
 
ইত্তেফাক/এমআর/আরএ